বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

সালমার বাবা হঠাৎ মারা যাওয়ায় তার মা অসহায় হয়ে পড়ে। একদিকে অর্থকষ্ট, অন্যদিকে ষোল বছর বয়সী সালমার সামাজিক নিরাপত্তা, সব মিলিয়ে সালমার মা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় সালমার বিধবা খালা তাদের বাড়িতে এসে সালমার দেখাশুনার ভার নেয়। সালমার মা-খালা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে নিজেদের খাওয়া পরা চালায়। এভাবেই তারা জীবনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করে।

  1. ক)

    ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়'—উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের চোখ ছল ছল করে উঠে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উপার্জনের পথ 'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি-পিসির উপার্জনের পথ থেকে ভিন্নতর কেন?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের নারীর যে সংগ্রামী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা যেন 'মাসি-পিসি' গল্পের মূল ভাবকে ইঙ্গিত করে। মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়'—উক্তিটি মাসির।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আহ্লাদির মতোই বুড়ো রহমানেরও একটি বিবাহিতা মেয়ে ছিল এবং আহ্লাদির মতো বয়সেই শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে মেয়েটি মৃত্যুবরণ করায় আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে।

    রহমানের নিজের মেয়েও ছিল আহ্লাদির বয়সী। আহ্লাদির মতো চেহারার মেয়েটিকে শ্বশুরবাড়িতে নিদারুণ নির্যাতনের শিকার হয়ে অল্প বয়সেই প্রাণ হারাতে হয়েছিল। তাই নিঃস্ব ও নির্যাতিতা আহ্লাদির অসহায় করুণ মুখের দিকে তাকাতেই বুড়ো রহমানের নিজের মৃত মেয়ের স্মৃতি মনে পড়ে যায় এবং পিতৃস্নেহ ও বেদনায় তার চোখ ছলছল করে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের উপার্জনের পথটি পরনির্ভরশীল দাসত্বমূলক হলেও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসির উপার্জনের পথ ছিল আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাধীন ব্যবসায়িক উদ্যোগ—এ কারণেই তাদের পথ ভিন্নতর।

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, মাসি ও পিসি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সব প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে বাজারে শাকসবজি ও ফলমূল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। তারা কারও করুণা বা আশ্রয়ে জীবনযাপন না করে শালতি বেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে স্বাধীন ও স্বাবলম্বী ব্যবসায়িক পথ বেছে নিয়েছিল, যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাধিকার ও আত্মমর্যাদা দিয়েছিল।

    অন্যদিকে উদ্দীপকে সালমার মা ও বিধবা খালা বেঁচে থাকার জন্য অন্যের বাড়িতে 'ঝিয়ের কাজ' বা গৃহপরিচারিকার কাজ বেছে নিয়েছে। এটি স্বাধীন কোনো ব্যবসা নয়, বরং অন্যের অধীনস্থ হয়ে শ্রম বিক্রি করার একটি সংকীর্ণ উপায়। মাসি-পিসি যেখানে নিজেরাই ব্যবসায়ী ও উদ্যোগী নারী হিসেবে আত্মমর্যাদার সাথে জীবিকা অর্জন করেছে, উদ্দীপকের নারীরা সেখানে অন্যের মুখাপেক্ষী ও দাসত্বমূলক পেশায় নিয়োজিত। জীবিকার স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার ভিন্নতার কারণেই এই দুটি পথ আলাদা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নারীর যে সংগ্রামী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা 'মাসি-পিসি' গল্পের মূল ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধারণ করলেও তা গল্পের সম্পূর্ণ চেতনার সমার্থক নয়, বরং আংশিক ইঙ্গিত করে।

    'মাসি-পিসি' গল্পের মূল ভাব হলো গ্রামীণ সমাজে চরম প্রতিকূলতা, নিঃস্বতা এবং পুরুষতান্ত্রিক লোলুপতার বিরুদ্ধে নারীদের যৌথ প্রতিরোধ, আত্মনির্ভরশীলতা ও বেঁচে থাকার অনন্য সংগ্রামী রূপ। মাসি ও পিসি কেবল নিজেদের পেটের ভাত জোগাড়ের জন্য সংগ্রাম করেনি, বরং পিতৃহীন-মাতৃহীন আহ্লাদিকে রক্ষা করতে লাঠিসোঁটা হাতে সমাজের দুর্বৃত্ত ও বদমাশদের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে লড়াইটা ছিল বহুমাত্রিক—অর্থনৈতিক ও সামাজিক উভয় দিক থেকেই।

    উদ্দীপকে সালমার বাবা মারা যাওয়ায় সালমার মা ও খালা যৌথভাবে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে অভাবের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছে এবং সালমার নিরাপত্তার ভার নিয়েছে। এই অংশটুকু মাসি-পিসির বেঁচে থাকার প্রাথমিক সংগ্রামের সাথে বেশ মিলে যায়। দুই নারী একত্রিত হয়ে বিপন্ন তরুণীর পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান।

    তবে 'মাসি-পিসি' গল্পের নারীরা ছিল আত্মনির্ভরশীল ব্যবসায়ী এবং গুন্ডা-বদমায়েশ ও প্রতিকূল সমাজের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধকারী যোদ্ধা। উদ্দীপকের নারীরা সেই তুলনায় ঝিয়ের কাজের মতো অধীনস্থ পেশায় নিয়োজিত এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেয়ে নীরবভাবে টিকে থাকার চেষ্টায় রত। তবুও, চরম অর্থনৈতিক ও পারিবারিক সংকটে নারীদের আপসহীন টিকে থাকার সংগ্রাম এবং পারস্পরিক সংহতির দিক থেকে উদ্দীপকের ভাবনাটি 'মাসি-পিসি' গল্পের মূল সংগ্রামী চেতনারই এক বাস্তব ইঙ্গিত বহন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন