গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

সোমা ও দীপা বান্ধবী মিলে একটি বুটিক শপ পরিচালনা করেন। সোমা কয়েকটি এক রঙ্গা শাড়ীতে নকশা এঁকে নকশাগুলো মোম দিয়ে ঢেকে তা রং এর দ্রবণে ডুবিয়ে বস্ত্র অলংকরণের ব্যাপারে দুজন কর্মীকে কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বস্ত্র ও পরিচ্ছদ বিষয়ে অভিজ্ঞ দীপা তাদের কাজে কিছু পরামর্শ যোগ করলেন, যেন শাড়ীগুলো যথেষ্ট রুচিসম্মত ও ফ্যাশনেবলও হয়। দীপা বলেন, স্টাইল ফ্যাশনের উপর নয় বরং ফ্যাশনই স্টাইলের উপর নির্ভরশীল।

  1. ক)

    সভ্যতার প্রধান নিদর্শন কী?

    (1)
  2. খ)

    পোশাক পেশার পরিচিতি দেয় — বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    সোমার বস্ত্র অলংকরণের পদ্ধতিটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্টাইল ও ফ্যাশন প্রসঙ্গে দীপার উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পোশাক বা পরিচ্ছদ হলো মানব সভ্যতার প্রধান নিদর্শন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পোশাকের ধরণ, রং ও নকশা দেখে অনেক সময় পরিধানকারীর পেশা সহজে শনাক্ত করা যায়। যেমন—চিকিৎসকের সাদা অ্যাপ্রন, আইনজীবীর কালো গাউন, পুলিশ বা সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম ইত্যাদি তাদের পেশাগত পরিচয় বহন করে। ফলে পোশাক সমাজ বা কর্মক্ষেত্রে পেশার পরিচয় স্পষ্ট করে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সোমার বস্ত্র অলংকরণের পদ্ধতিটি হলো ঐতিহ্যবাহী 'বাটিক' (Batik) পদ্ধতি।

    বাটিক পদ্ধতিতে কাপড়ের যেসব স্থানে রং লাগাতে চাওয়া হয় না, সেসব স্থানে নকশা অনুযায়ী গলিত মোমের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় (মোম প্রতিরোধক বা Wax resist)। এরপর কাপড়টিকে ঠান্ডা রঙের দ্রবণে ডোবানো হলে মোম দেওয়া অংশ ছাড়া বাকি অংশ রঙিন হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে গরম পানির সাহায্যে মোম গলিয়ে তুলে ফেললে নির্দিষ্ট নকশাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে সোমা নকশা এঁকে তা মোম দিয়ে ঢেকে রঙের দ্রবণে ডুবিয়ে এই বাটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বস্ত্র অলংকরণ করছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দীপার উক্তি—"স্টাইল ফ্যাশনের উপর নয় বরং ফ্যাশনই স্টাইলের উপর নির্ভরশীল"—বস্ত্র ও পরিচ্ছদ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত যথার্থ।

    স্টাইল হলো কোনো পোশাক বা বস্ত্রের নির্দিষ্ট ও স্থায়ী একটি রূপ বা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য (যেমন—শাড়ি, স্যুট বা ফ্রকের নিজস্ব কাট ও বৈশিষ্ট্য)। অন্যদিকে, ফ্যাশন হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো একটি স্টাইলকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সানন্দে গ্রহণ ও অনুসরণ করার সাময়িক প্রবণতা।

    কোনো স্টাইল যখন কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সমাজের অধিকাংশ মানুষ তা পরিধান করতে শুরু করে, তখন তা 'ফ্যাশন' হিসেবে রূপ নেয়। অর্থাৎ, স্টাইল যদি অস্তিত্বশীল না থাকে, তবে ফ্যাশন তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। স্টাইল বিদ্যমান থাকে বলেই তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন বা সংযোজন এনে তা ফ্যাশনে রূপ পায়। সুতরাং ফ্যাশনের ভিত্তিপ্রস্তর বা উৎস হলো স্টাইল; ফ্যাশন কখনোই নিজে নিজে জন্ম নিতে পারে না। তাই দীপার বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন