পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
২০১২ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে পাস হয় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) বিল। এ বিল অনুযায়ী, ১৩২৩টি প্রাণী ও উদ্ভিদকে চিহ্নিত করা হয় সংরক্ষণের জন্য। ২০১২ সালে পাসকৃত আইনগুলোর মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য।
- ক)(1)
জাতীয় সংসদের সদস্য হতে হলে ন্যূনতম বয়স কত হবে?
- খ)(2)
বিচার বিভাগীয় কাজ সম্পাদনে জাতীয় সংসদ কীভাবে ভূমিকা রাখে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিল উত্থাপন জাতীয় সংসদের কোন কার্যাবলিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনাটি জাতীয় সংসদের সমগ্র কার্যাবলিকে চিত্রায়িত করে না- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় সংসদের সদস্য হতে হলে প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২৫ (পঁচিশ) বছর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় সংসদ সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের দায়ে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন ও পাস করতে পারে। এ ছাড়া কোনো কোনো গণতান্ত্রিক দেশে প্রধান বিচারপতি বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের অপসারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার আইনসভার হাতে থাকে, যা সংসদের বিচার বিভাগীয় ভূমিকা হিসেবে গণ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিল উত্থাপন ও পাসের ঘটনাটি জাতীয় সংসদের 'আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলি'-কে নির্দেশ করে।
জাতীয় সংসদ বা আইনসভার প্রধান ও মৌলিক দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন আইন তৈরি করা, বিদ্যমান আইন সংশোধন করা কিংবা অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিল করা। বিল হলো আইনের খসড়া রূপ, যা সংসদে উত্থাপিত হয় এবং বিস্তারিত আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে পাস হয়ে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে আইনে পরিণত হয়।
উদ্দীপকে ২০১২ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে 'বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) বিল' উত্থাপন ও তা পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার কথা বলা হয়েছে। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী এটি জাতীয় সংসদের অন্যতম প্রধান কাজ, অর্থাৎ আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত দায়িত্বের প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ২০১২ সালে জাতীয় সংসদে কেবল একটি বিল পাস হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত একটিমাত্র কাজ। তাই যথার্থভাবেই বলা যায়, ঘটনাটি জাতীয় সংসদের সমগ্র কার্যাবলিকে চিত্রায়িত করে না।
জাতীয় সংসদের কার্যাবলি অত্যন্ত বিস্তৃত ও বহুমুখী। আইন প্রণয়ন ছাড়াও জাতীয় সংসদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি নিম্নরূপ:
১. শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ: সংসদ প্রশ্নোত্তর পর্ব, সিদ্ধান্ত প্রস্তাব, মুলতবি প্রস্তাব এবং অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে মন্ত্রিসভা তথা শাসন বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখে এবং নিয়ন্ত্রণ করে।
২. আর্থিক ক্ষমতা: জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণকারী। জাতীয় বাজেট অনুমোদন, কর ধার্য, সরকারি অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন প্রদান ইত্যাদি সবই সংসদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সংসদের সম্মতি ছাড়া সরকার কোনো অর্থ ব্যয় বা কর আরোপ করতে পারে না।
৩. সংবিধান সংশোধন: দেশের প্রয়োজনে সংবিধানের যেকোনো ধারা সংশোধন, পরিবর্তন বা সংযোজন করার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ন্যস্ত।
৪. বিচারিক ও নির্বাচনি কার্যাবলি: সংসদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন পরিচালনা করে। এছাড়া স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজও সংসদ করে থাকে।
৫. জনমত প্রকাশ ও জাতীয় বিতর্ক: জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
অতএব, উদ্দীপকের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিল পাসের ঘটনাটি কেবল সংসদের আইন প্রণয়নমূলক কাজের একটি আংশিক দৃষ্টান্ত; এটি সংসদের শাসনতান্ত্রিক, আর্থিক, নির্বাচনি ও সাংবিধানিক সামগ্রিক দায়িত্বকে প্রতিফলিত করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও