পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আজাদ একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তিনি অতি সহজেই তার প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারেন। জনগণ তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। বিশেষ করে তার বক্তব্য ও ব্যক্তিত্ব জনগণকে উজ্জীবিত করে।
- ক)(1)
রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা কী?
- খ)(2)
রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব আজাদ-এর নেতৃত্বের ধরন পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আজাদ-এর গুণাবলি ব্যতিত নেতৃত্বের আর কী কী গুণাবলি থাকতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাজনৈতিক দল হলো এমন একটি সুসংগঠিত জনসমষ্টি, যা নির্দিষ্ট কিছু নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ হলো একটি চলমান শিখন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি রাজনৈতিক মূল্যবোধ, মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান ও বিশ্বাস অর্জন করে রাজনৈতিক জীবনের উপযোগী হয়ে ওঠে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আজাদের নেতৃত্ব পাঠ্যবইয়ের আলোকে 'সম্মোহনী নেতৃত্ব' (Charismatic Leadership)-কে নির্দেশ করে।
সম্মোহনী নেতৃত্ব হলো সেই ধরনের নেতৃত্ব, যেখানে নেতার ব্যক্তিগত আকর্ষণ, বাগ্মীতা, প্রজ্ঞা ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের গুণে জনগণ তাঁর প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয় এবং তাঁকে অন্ধের মতো বিশ্বাস ও অনুসরণ করে। এই নেতৃত্বের মূল ভিত্তি নেতার প্রতি অনুসারীদের অটল আস্থা ও ভক্তি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আজাদ একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা, যিনি অতি সহজেই তাঁর প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারেন। জনগণ তাঁকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এবং তাঁর বক্তব্য ও ব্যক্তিত্ব জনগণকে ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধারণানুযায়ী এটি স্পষ্টতই সম্মোহনী নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আজাদের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞার মতো গুণের কথা বলা হয়েছে, যা সম্মোহনী নেতৃত্বের লক্ষণ। তবে একজন সফল ও কার্যকর রাজনৈতিক নেতার কেবল এ গুণাবলিই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি আরও বহুবিধ গুণের প্রয়োজন রয়েছে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সততা ও নৈতিক চরিত্র: নেতার সততা, নিষ্ঠা এবং নিষ্কলুষ চরিত্র জনগণের আস্থা অর্জনের মূল ভিত্তি। নৈতিকতাহীন নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
২. দূরদর্শিতা: যেকোনো পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের সংকট ও সম্ভাবনা অনুধাবন করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দূরদর্শী ক্ষমতা নেতার থাকতে হয়।
৩. সাহস ও আত্মবিশ্বাস: জাতীয় বা দলের সংকটকালীন মুহূর্তে নির্ভীকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন অপরিহার্য।
৪. ধৈর্য ও পরমতসহিষ্ণুতা: নেতার অন্যের মতামত শোনার ধৈর্য এবং ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা বা পরমতসহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
৫. দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা: জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিজ কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করার মানসিকতা নেতৃত্বের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।
৬. দেশপ্রেম: নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম ছাড়া কোনো নেতা জাতীয় কল্যাণে স্থায়ী অবদান রাখতে পারেন না।
অতএব, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও সম্মোহনী গুণাবলির পাশাপাশি সততা, দূরদর্শিতা, সহনশীলতা এবং দৃঢ় দেশপ্রেমের মতো গুণাবলি একজন নেতাকে পূর্ণাঙ্গ ও সার্থক করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও