‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

তাহেরা একটি বই পড়ে জানতে পারলো যে, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। ক্ষমতা বণ্টনের নীতি অনুসারে এই দুই দেশের সরকার পরিচালনা পদ্ধতি ভিন্ন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান ভিন্ন ব্যক্তি এবং আইন বিভাগ শক্তিশালী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে একই ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাশালী।

  1. ক)

    একনায়কতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারগুলো একই পদ্ধতির সরকারের ভিন্নরূপ- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি সরকারের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা একজন ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক দলের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং তিনি বা সেই দল চরম ও অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সার্বিক ক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে বণ্টিত থাকে, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা এবং একটি লিখিত ও অনমনীয় সংবিধানের উপস্থিতি দেখা যায়, যা কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা মূলত গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকারের ভিন্নরূপ।

    গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন, যেখানে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে সরকার গঠিত ও পরিচালিত হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে মূলত দুই ধরনের সরকার রূপ লাভ করে: সংসদীয় সরকার এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশ সংসদীয় পদ্ধতির গণতন্ত্র অনুসরণ করে, যেখানে আইনসভার প্রাধান্য থাকে এবং রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ভিন্ন ব্যক্তি হন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি শাসিত গণতন্ত্র অনুসরণ করে, যেখানে রাষ্ট্রপতি একই সাথে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। সুতরাং, পদ্ধতিগত দিক থেকে উভয় দেশই গণতান্ত্রিক হলেও ক্ষমতা বণ্টন ও পরিচালনার নীতি অনুযায়ী তারা একই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকারের দুটি ভিন্ন রূপ (সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি সরকার হলো বাংলাদেশের 'সংসদীয় পদ্ধতির সরকার' এবং যুক্তরাষ্ট্রের 'রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার'। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের অবস্থান: সংসদীয় পদ্ধতিতে (বাংলাদেশ) রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান আলাদা ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতি কেবল নিয়মতান্ত্রিক প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত শাসনক্ষমতার অধিকারী। পক্ষান্তরে, রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতিতে (যুক্তরাষ্ট্র) রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান।

    ২. আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক: সংসদীয় সরকারে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল এবং কাজের জন্য সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে শাসন বিভাগ আইন বিভাগ থেকে পৃথক ও স্বাধীন এবং আইনসভার কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ নয়।

    ৩. ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ: যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি ও 'ভারসাম্য নীতি' (Checks and Balances) কঠোরভাবে অনুসৃত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বিদ্যমান।

    ৪. মন্ত্রিপরিষদের ভূমিকা: সংসদীয় পদ্ধতিতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা আইনসভার সদস্য হন এবং যৌথ দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতিতে মন্ত্রিসভা কেবল রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে এবং তারা রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা অনুযায়ী পদে বহাল থাকেন।

    পরিশেষে বলা যায়, দুটি সরকারব্যবস্থাই গণতান্ত্রিক হলেও ক্ষমতার বণ্টন, প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতার কাঠামোর দিক থেকে এদের মধ্যে স্পষ্ট ও মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন