বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচা ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা রক্তে আলোর মদে মাতাল ভোরে আজকে যে যা বলুক তোরে, সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ করে পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা আয় দুরন্ত আয়রে আমার কাঁচা
- ক)(1)
আঠারো বছর বয়সের কী নেই?
- খ)(2)
“এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়।"-বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'রক্তে'র প্রসঙ্গ 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“ভাষা ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি একই প্রেরণাজাত।" -আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আঠারো বছর বয়স' কবিতা অনুযায়ী আঠারো বছর বয়সের কোনো ভয় বা সংশয় নেই।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়”—চরণটি দিয়ে তারুণ্যের অদম্য সাহস, নির্ভীকতা ও যেকোনো বাধার মুখে রুখে দাঁড়ানোর শক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
আঠারো বছর বয়সে পদার্পণকারী তরুণরা প্রতিকূলতাকে ভয় পায় না। তারা অন্যায়, অবিচার ও জরাজীর্ণ মানসিকতাকে পেছনে ফেলে জীবন বাজি রেখে সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যায়। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তারা পিছু হটে না। তাদের এই অকুতোভয় চরিত্রকেই কবি ভীরুতা ও কাপুরুষতার সম্পূর্ণ বিপরীত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'রক্তে'র প্রসঙ্গটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্য, সজীবতা এবং আত্মত্যাগের উদ্দীপনা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে "রক্তে আলোর মদে মাতাল ভোরে", যা তারুণ্যের শিরায় শিরায় বয়ে চলা আলোর মত্ততা, নবজাগরণ ও বাঁধভাঙা শক্তির প্রতীক।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় রক্ত শব্দটি তারুণ্যের অফুরন্ত শক্তি, ঝুঁকি নেওয়া এবং প্রয়োজনে দেশের জন্য আত্মাহুতির অনুষঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে। কবি উল্লেখ করেছেন—"এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর, এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা/ এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে, বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী/ এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য/ বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে।" অর্থাৎ উদ্দীপকের মতো কবিতাতেও তারুণ্যের রক্ত নিছক জৈবিক উপাদান নয়, তা অন্যায় ভাঙার তেজ, ত্যাগ এবং নতুন ভোরের আলো আনার অপরাজেয় প্রেরণা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“ভাষা ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি একই প্রেরণাজাত”—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সবুজের অভিযান' কবিতার ছোঁয়া রয়েছে, যেখানে নবীন, কাঁচা ও অবুঝ সবুজ তরুণদের আহ্বান জানানো হয়েছে জরাগ্রস্ত, আধমরা সমাজকে আঘাত করে জাগিয়ে তোলার জন্য। সেখানে ভাষা রূপক ও কিছুটা শান্ত কিন্তু ছন্দময় আহ্বানে পূর্ণ। অন্যদিকে সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাষা প্রখর, বলিষ্ঠ এবং গতিশীল বাস্তবতায় ঋদ্ধ।
তবে বাহ্যিক ভাষার এই ভিন্নতা থাকলেও উভয় রচনার অন্তর্বর্তী চেতনা ও প্রেরণা এক। উভয় কবিতাতেই তারুণ্যের জয়গান গাওয়া হয়েছে। জরা, স্থবিরতা, ভীরুতা এবং প্রচলিত সংস্কারকে চূর্ণ করে তারুণ্যই পারে সমাজের নবজাগরণ ঘটাতে—এটাই উভয় কবিতার মূল কথা। উদ্দীপকের 'আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা' আর সুকান্তের 'আঠারো বছর বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য' কিংবা 'দুর্যোগে আর ঝড়ে' তারুণ্যের নির্ভীক পথচলা একই বিপ্লবী প্রেরণাকে নির্দেশ করে।
সুতরাং, ভাষার গঠন ও রূপ ভিন্ন হলেও তারুণ্যের জয়ধ্বনি এবং পরিবর্তন আনার অদম্য শক্তির বন্দনায় দুটি রচনাই একই মহৎ প্রেরণা থেকে উৎসারিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও