বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
অপরাজেয় বাংলা কী?
- খ)(2)
শিখা চিরন্তন কেন স্থাপন করা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছবিটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উত্ত ঘটনাই পরবর্তীতে জনগণকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অপরাজেয় বাংলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত একটি ভাস্কর্য, যার স্থপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ খালেদ।
- খ)
মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে চিরজাগরূক রাখার জন্য শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হয়েছে। এর অনির্বাণ শিখা শহিদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক এবং নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় অনুপ্রাণিত করে।
- গ)
ছবিতে একটি বিশাল জনসভায় এক নেতাকে মঞ্চে বক্তৃতা দিতে দেখা যায়, যা ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের ঘটনাকে নির্দেশ করে।
এদিন লাখো জনতার সামনে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকারের কথা তুলে ধরেন এবং ঘোষণা করেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'। ভাষণে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের নির্দেশনা দেন।
- ঘ)
৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মন্তব্যটি যথার্থ।
১. স্বাধীনতার আহ্বান: ভাষণে 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' বলে তিনি স্পষ্টভাবে জনগণকে মুক্তির সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন।
২. প্রতিরোধের নির্দেশনা: 'ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো' ও 'যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে' বলে তিনি সবাইকে সংগঠিত প্রতিরোধের নির্দেশ দেন।
৩. সংগ্রামের প্রেরণা: 'রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ' বক্তব্য জনগণের মনে সাহস ও দৃঢ় প্রত্যয় জাগায়।
৪. ঐক্য: এই ভাষণ সব শ্রেণির মানুষকে এক কাতারে এনে মুক্তিযুদ্ধের মানসিক ভিত্তি তৈরি করে।সুতরাং, ৭ই মার্চের ভাষণই জনগণকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও