কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

তহমিনা যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার পুকুরে নাইলোটিকা মাছ চাষ করেন কিন্তু মাছের বৃদ্ধি আশানুরূপ হয়নি। তিনি মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ চান। মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট নয়। এজন্য মাছের অতিরিত খাদ্য সরবরাহ প্রয়োজন হয়। মৎস্য কর্মকর্তা এ খাদ্য তৈরির কৌশলও তহমিনাকে বুঝিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো সম্পূরক খাদ্য।"

  1. ক)

    একুয়াকালচার কী?

    (1)
  2. খ)

    রাজপুঁটি মাছ চাষ করা লাভজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মৎস্য কর্মকর্তা যেভাবে মাছের খাদ্য তৈরির কৌশল বুঝিয়ে দিলেন তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মৎস্য কর্মকর্তার শেষ উক্তিটির সাথে কি তুমি একমত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে উৎপাদন বা চাষ করাকে অ্যাকুয়াকালচার (Aquaculture) বা জলজ চাষ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাজপুঁটি বা থাই সরপুঁটি মাছ দ্রুত বর্ধনশীল এবং প্রতিকূল পরিবেশেও সহজে টিকে থাকতে পারে। এ মাছ কম খরচে পুকুরে সহজেই চাষ করা যায়, রোগবালাই কম হয় এবং মাত্র ৪-৫ মাসেই বাজারজাত করার উপযোগী ওজনে পৌঁছায়। তাছাড়া এরা সম্পূরক খাদ্য ও প্রাকৃতিক খাদ্য উভয়ই সানন্দে গ্রহণ করে এবং বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে, ফলে অল্প সময়ে বেশি মুনাফা অর্জন করা যায়। এজন্য রাজপুঁটি চাষ করা অত্যন্ত লাভজনক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মৎস্য কর্মকর্তা তহমিনাকে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য সম্পূরক খাদ্য তৈরির কৌশল বুঝিয়ে দেন। সম্পূরক খাদ্য তৈরি করতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য পুষ্টিকর উপাদান ব্যবহার করতে হয়।

    খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
    ১. উপাদান সংগ্রহ ও অনুপাত নির্ধারণ: চালের কুঁড়া বা গমের ভুসি (৪০%), সরিষার খৈল (৩০%), ফিশমিল বা শুঁটকির গুঁড়া (২০%), আটা বা চিটাগুড় বাইন্ডার হিসেবে (১০%) এবং প্রয়োজনে ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ সংগ্রহ করতে হয়।
    ২. মিশ্রণ ও মণ্ড তৈরি: সরিষার খৈলকে প্রথমে ১২-১৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর অন্যান্য শুকনো উপাদান (চালের কুঁড়া, ফিশমিল ইত্যাদি) ভালোভাবে গুঁড়া করে চালনিতে চেলে পরিষ্কার করা হয়। এরপর খৈল ও চিটাগুড়ের সাথে সমস্ত উপাদান মিশিয়ে পানির সাহায্যে একটি নরম মণ্ড তৈরি করা হয়।
    ৩. পিলেট বা বড়ি তৈরি: মণ্ডটিকে পিলেট মেশিনের সাহায্যে অথবা হাত দিয়ে ছোট ছোট বল বা বড়ি আকারে রূপ দেওয়া হয়।
    ৪. শুকানো ও সংরক্ষণ: তৈরি করা পিলেট বা খাদ্য রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতা ১০-১২% এর নিচে নামিয়ে এনে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এভাবে পুষ্টিকর ও সুষম সম্পূরক খাদ্য তৈরি করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মৎস্য কর্মকর্তার শেষ উক্তিটি হলো— "মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো সম্পূরক খাদ্য।" আমি এই উক্তিটির সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত।

    একটি পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে ফাইটোপ্লাংকটন ও জুপ্লাংকটন ইত্যাদি মাছের খাদ্য উৎপন্ন হয়। তবে নিবিড় বা আধা-নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে অধিক ঘনত্বে পোনা মজুত করলে প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য পর্যাপ্ত হয় না। ফলে অতিরিক্ত পুষ্টিচাহিদা পূরণের জন্য বাইরে থেকে সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

    সম্পূরক খাদ্যের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
    ১. দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি: সম্পূরক খাদ্যে সুষম মাত্রায় প্রোটিন, ফ্যাট, শর্করা ও খনিজ থাকে, যা মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
    ২. চাষের সময় হ্রাস ও ঘনত্ব বৃদ্ধি: পর্যাপ্ত সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করলে কম জায়গায় অধিক মাছ চাষ করা সম্ভব হয় এবং মাছ দ্রুত বাজারজাতযোগ্য হয়।
    ৩. অপুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ: ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ সম্পূরক খাদ্য গ্রহণের ফলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং মৃত্যুহার কমে।
    ৪. মুনাফা বৃদ্ধি: নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়ায় চাষির অর্থনৈতিক সাফল্য ও লাভ নিশ্চিত হয়।

    অতএব, মাছ চাষে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মৎস্য কর্মকর্তার উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন