কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
কৃষি বিষয়ক একটি মাসিক পত্রিকা 'কৃষিকথা'। এই পত্রিকার একটি প্রতিবেদন পড়ে শরিফুল সাহেব জানতে পারেন যে, চিংড়িকে বাংলাদেশের 'সাদা সোনা' বলা হয় এবং বাংলাদেশে এটি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। উক্ত প্রতিবেদন পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে শরিফুল সাষেন তার পুকুরে চিংড়ি চাষের সিস্টান্ত নিলেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য তিনি মৎস্য কর্মকর্তার কাছে গেলেন। মৎস্য কর্মকর্তা তাকে মিশ্রচাষ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের পরামর্শ দিলেন।
- ক)(1)
প্লাংকটন কী?
- খ)(2)
নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিংড়ির বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শরিফুল সাথেব চিংড়ি চাষের জন্য কীভাবে পুকুরটি প্রস্তুত করবেন- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পানিতে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীবকে (উদ্ভিদ ও প্রাণী) প্লাংকটন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছ দ্রুত পচনশীল একটি খাদ্যদ্রব্য। আহরণের পরপরই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও এনজাইমের ক্রিয়ায় মাছ পচতে শুরু করে। মাছকে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখা, পুষ্টিমান বজায় রাখা, গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের উপযোগী করা এবং বিষাক্ত ফরমালিন বা রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ করার জন্য নিরাপদ উপায়ে মাছ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিঠা পানির গলদা চিংড়ি চাষের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যাকে বাংলাদেশে 'সাদা সোনা' হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। নিচে এর বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. দৈহিক গঠন: গলদা চিংড়ির দেহ মস্তক-বক্ষ (সেফালোথোরাক্স) এবং উদরে বিভক্ত। এদের সামনের এক জোড়া সাঁড়াশি পা তুলনামূলক বেশ লম্বা ও শক্তিশালী এবং নীলচে রঙের হয়।
২. বাসস্থান ও প্রকৃতি: এরা সাধারণত মিঠাপানির জীব, তবে এদের লার্ভা বিকাশের জন্য ঈষৎ লবণাক্ত পানির (ব্র্যাকিশ ওয়াটার) প্রয়োজন হয়। এরা নিশাচর এবং সাধারণত তলদেশের অন্ধিসন্ধি ও আশ্রয়ে থাকতে পছন্দ করে।
৩. খাদ্যাভ্যাস: চিংড়ি সর্বভুক স্বভাবের। এরা পুকুরের তলদেশের পচা জৈব পদার্থ, ক্ষুদ্র জলজ পোকা, শামুক-ঝিনুকের মাংস, শেওলা ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে। এরা তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শরিফুল সাহেব মিশ্রচাষ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের জন্য নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণের মাধ্যমে পুকুরটি প্রস্তুত করবেন:
১. পুকুর শুকানো ও রাক্ষুসে মাছ দূরীকরণ: পুকুরের পানি নিষ্কাশন করে তলদেশ শুকিয়ে ফেলতে হবে যাতে তলায় ক্ষতিকর গ্যাস না জমে এবং রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর হয়। শুকানো সম্ভব না হলে রোটেনন বা মহুয়া খৈল প্রয়োগ করতে হবে।
২. পুকুর সংস্কার ও আগাছা দমন: পুকুরের পাড় মেরামত, তলার অতিরিক্ত কাদা অপসারণ এবং জলজ আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। তলার অতিরিক্ত রোদ নিশ্চিত করতে পাড়ের গাছের ডালপালা ছাঁটতে হবে।
৩. চুন প্রয়োগ: মাটির গুণাগুণ ও অম্লত্ব ভেদে প্রতি শতাংশে ১-২ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং রোগজীবাণু ধ্বংস করে।
৪. সার প্রয়োগ: চুন প্রয়োগের ৪-৫ দিন পর পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য বা প্লাংকটন তৈরির জন্য শতাংশ প্রতি ৫-৭ কেজি গোবর সার, ১০০-১৫০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৫০-৭৫ গ্রাম টিএসপি গুলে ছিটিয়ে দিতে হবে।
৫. আশ্রয়স্থল স্থাপন: চিংড়ি খোলস বদলানোর সময় দুর্বল থাকে, তখন স্বজাতিভক্ষণ থেকে বাঁচতে পুকুরের তলায় বাঁশের পাতা, নারিকেলের পাতা বা পিভিসি পাইপের টুকরো দিয়ে পর্যাপ্ত কৃত্রিম আশ্রয়স্থল তৈরি করতে হবে।এভাবে যথাযথ নিয়মে পুকুর প্রস্তুত করে শরিফুল সাহেব সুস্থ-সবল চিংড়ির পোনা মজুত করতে পারবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও