কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

পশু চিকিৎসক রাসেল সাহেব ছুটিতে গ্রামের বাড়ি। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেড়াতে এসে লক্ষ করলেন তার চাচার বাড়ির আঙ্গিনায় বাঁধা একটি গরুর নাক ও মুখ থেকে ফেনা পড়ছে। গরুটির কাছে গিয়ে সে ভালোভাবে রোগটি শনাক্ত করল। তার চাচাকে সে এ সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিলেন এবং ভবিষ্যতে যাতে এ রোগ না হয় তার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে বললেন।

  1. ক)

    গরুর ভাইরাসজনিত একটি রোগের নাম লেখো।

    (1)
  2. খ)

    সাইলেজ কেন পশুখাদ্য হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    কীভাবে তুমি উদ্দীপকের এ রোগটি শনাক্ত করবে- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা উত্তম'- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গরুর একটি ভাইরাসজনিত রোগ হলো ক্ষুরা রোগ (Foot and Mouth Disease বা FMD)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাইলেজ হলো সবুজ ঘাসকে বায়ুরোধী অবস্থায় নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সন্ধান (fermentation) করে সংরক্ষিত পশুখাদ্য। শুষ্ক মৌসুম বা বর্ষাকালে যখন কাঁচা ঘাসের অভাব দেখা দেয়, তখন সাইলেজ গবাদিপশুর পুষ্টিকর খাদ্য চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইলেজে ঘাসের পুষ্টিমান ও ভিটামিন অক্ষুণ্ন থাকে, এটি সহজপাচ্য এবং পশুর রুচি বৃদ্ধি করে তাদের স্বাস্থ্য ও দুধ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত গরুর নাক ও মুখ দিয়ে ফেনা পড়ার লক্ষণটি মূলত 'গলাফোলা' (বা ক্ষুরারোগ) রোগের ইঙ্গিত বহন করে। আমি নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করব:
    ১. শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা: আক্রান্ত পশুর দেহে হঠাৎ তীব্র জ্বর (১০৪°-১০৭° ফারেনহাইট) রয়েছে কি না তা দেখা।
    ২. মুখ ও নাকের নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ: পশুটির নাক ও মুখ দিয়ে অবিরাম লালা বা ফেনা ঝরছে কি না তা যাচাই করা।
    ৩. গলদেশ পরীক্ষা: পশুর গলা, চোয়ালের নিচের অংশ ও গলকম্বলে গরম এবং বেদনার্ত ফোলা রয়েছে কি না তা হাত দিয়ে পরীক্ষা করা।
    ৪. শ্বাসপ্রশ্বাস নিরীক্ষণ: শ্বাসকষ্টের কারণে পশুটি ঘড়ঘড় শব্দ করছে কি না এবং মুখ হাঁ করে শ্বাস নিচ্ছে কি না তা লক্ষ করা।
    ৫. পশুর আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস: পশুটি খাওয়া-দাওয়া ও জাবর কাটা বন্ধ করে মাথা নিচের দিকে দিয়ে ঝিমুচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করে রোগটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করব।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা উত্তম'- উক্তিটি উদ্দীপকের রোগ ব্যবস্থাপনা প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ ও যুক্তিসঙ্গত।
    উদ্দীপকে উল্লেখিত গলাফোলা রোগটি একটি তীব্র ও মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগে আক্রান্ত হলে খুব দ্রুত পশুর অবস্থা অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসার সময় পাওয়ার আগেই অনেক সময় পশুর মৃত্যু ঘটে। এছাড়া আক্রান্ত পশুর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ বাবদ প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় এবং পশু দুর্বল হয়ে স্থায়ীভাবে উৎপাদনশীলতা হারায়। এতে খামারি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
    পক্ষান্তরে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে রোগটিকে সহজেই দূরে রাখা সম্ভব। যেমন:
    ১. টিকাদান: নির্দিষ্ট সময় পর পর গবাদিপশুকে নিয়মিত প্রতিরোধক টিকা (ভ্যাকসিন) প্রদান করলে এ রোগের ঝুঁকি প্রায় থাকে না বললেই চলে।
    ২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: গোয়ালঘর সর্বদা শুকনো, জীবাণুমুক্ত রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা।
    ৩. জৈব নিরাপত্তা ও পৃথকীকরণ: আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে রাখা এবং সুস্থ পশুর কাছে কোনো জীবাণু ছড়াতে না দেওয়া।
    সুতরাং, চিকিৎসা বা প্রতিকারের অনিশ্চয়তা ও ব্যয়ের তুলনায় যথাসময়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনেক সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন