যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    জ্যামিতিক আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পাঠ: ১-এ কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করছে? বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠ: ১ ও পাঠ : ২-এর মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত বা ঘটনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে আরোহ (Induction) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জ্যামিতিক আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না, কারণ এতে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ 'আরোহমূলক লম্ফ' (Inductive Leap) অনুপস্থিত থাকে। প্রকৃত আরোহে জানা থেকে অজানায় গমন করতে হয় এবং পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু জ্যামিতিক আরোহে একটি নির্দিষ্ট জ্যামিতিক চিত্র (যেমন একটি ত্রিভুজ) বিশ্লেষণ করে অবরোহ নিয়মে সকল ত্রিভুজের ক্ষেত্রে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাই লম্ফহীনতার কারণে জ্যামিতিক আরোহ হলো একটি অপ্রকৃত আরোহ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের পাঠ: ১-এ 'অসাধু সাদৃশ্যানুমান' বা 'মন্দ সাদৃশ্যানুমান'-কে ইঙ্গিত করছে।

    দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি অগুরুত্বপূর্ণ, বাহ্যিক বা আকস্মিক গুণের সাদৃশ্য দেখিয়ে যদি তাদের মধ্যে অপর কোনো গুণের সাদৃশ্য অনুমান করা হয়, তবে তাকে মন্দ সাদৃশ্যানুমান বলা হয়।

    উদ্দীপকের পাঠ: ১-এ মানুষ ও বানরের মধ্যে চলাফেরা, খাদ্যগ্রহণ ও মৃত্যুবরণ—এই কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যের মিল দেখানো হয়েছে। অতঃপর মানুষের বুদ্ধি থাকার দৃষ্টান্তের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বানরেরও বুদ্ধি আছে। এখানে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির সাথে উল্লেখিত সাদৃশ্যগুলোর কোনো আবশ্যিক বা প্রাসঙ্গিক কার্যকারণ সম্পর্ক নেই। বুদ্ধিবৃত্তি মানুষের একটি বিশেষ লক্ষণ, যা কেবলমাত্র খাদ্যগ্রহণ বা চলাফেরার মতো সাধারণ জৈবিক ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে অনুমিত হতে পারে না। ফলে অগুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে উদ্দীপকের পাঠ: ১ একটি মন্দ সাদৃশ্যানুমানকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠ: ১ হলো 'মন্দ সাদৃশ্যানুমান' বা 'অসাধু সাদৃশ্যানুমান' এবং পাঠ: ২ হলো 'সাধু সাদৃশ্যানুমান'। নিম্নে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এদের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ করা হলো:

    ১. সাদৃশ্যের প্রকৃতির পার্থক্য: সাধু সাদৃশ্যানুমানে (পাঠ: ২) দুটি বস্তুর মধ্যে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যেমন মানুষ ও বটগাছের ক্ষেত্রে জন্ম, বৃদ্ধি/বংশবিস্তার, খাদ্যগ্রহণ ও মৃত্যু—এগুলো জীবনের মৌলিক শর্ত। অন্যদিকে, মন্দ সাদৃশ্যানুমানে (পাঠ: ১) অগুরুত্বপূর্ণ, বাহ্যিক বা অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত টানা হয়।

    ২. কার্যকারণ সম্পর্কের সম্ভাবনা: সাধু সাদৃশ্যানুমানে অনুমিত গুণের সাথে জ্ঞাত সাদৃশ্যসমূহের একটি যৌক্তিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক অনুধাবন করা যায়। জীবের জৈবিক বৈশিষ্ট্যের সাথে জীবন থাকার একটি প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। কিন্তু মন্দ সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো অবকাশ থাকে না; যেমন—চলাফেরা বা খাদ্যগ্রহণের সাথে মানুষের মতো বুদ্ধিবৃত্তি থাকার কোনো নিশ্চিত সম্পর্ক নেই।

    ৩. সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা: সাধু সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্তের সম্ভাবনার মাত্রা অত্যন্ত বেশি হয় এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটি অনুকল্প গঠনে সাহায্য করে। বিপরীতে, মন্দ সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা অতি ক্ষীণ বা তা ভ্রান্ত সিদ্ধান্তে পর্যবসিত হয়, যার কোনো বৈজ্ঞানিক মূল্য নেই।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের পাঠ: ১ ও পাঠ: ২ যথাক্রমে সাদৃশ্যানুমানের দুটি বিপরীত রূপ—অসাধু ও সাধু সাদৃশ্যানুমানের প্রতিনিধিত্ব করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন