ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সমুদ্র বায়ু কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মেঘ সংঘটনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' শ্রেণির বৃষ্টিপাতের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দিনের বেলা সমুদ্র বা জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে যে মৃদু ও শীতল বাতাস প্রবাহিত হয়, তাকে সমুদ্র বায়ু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠের নদী-নালা, খাল-বিল ও সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত হয়ে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। জলীয় বাষ্প হালকা হওয়ায় তা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে উঠে যায়। সেখানে তাপমাত্রা কম থাকায় জলীয় বাষ্প ধীরে ধীরে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে অতিক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণায় পরিণত হয়। এই অতিক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণা যখন বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ভেসে বেড়ায়, তখন মেঘের সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রে পরিচলন বৃষ্টিপাত নির্দেশ করা হয়েছে।

    পরিচলন বৃষ্টিপাতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. উৎপত্তি: প্রখর সূর্যতাপে ভূপৃষ্ঠের জলভাগ থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস খাড়াভাবে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। ওপরে উঠে বাতাস শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কিউমুলাস বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে এবং পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়।
    ২. সময় ও অঞ্চল: এ বৃষ্টিপাত সাধারণত নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে ঘটে থাকে।
    ৩. স্থায়িত্ব ও প্রকৃতি: পরিচলন বৃষ্টিপাত সাধারণত অল্প সময় ধরে ভারী বা প্রবল বর্ষণ হিসেবে ঘটে। প্রায়শই বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমকানো এবং কখনো কখনো শিলাবৃষ্টির সাথে এটি সংঘটিত হয়।
    ৪. আকাশ পরিষ্কার হওয়া: বৃষ্টিপাত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আকাশ দ্রুত মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার হয়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'ক' পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) এবং চিত্র 'খ' শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) নির্দেশ করে। নিম্নে এ দুই ধরনের বৃষ্টিপাতের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উৎপত্তির কারণ: পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটে ভূপৃষ্ঠ অত্যধিক উত্তপ্ত হওয়ায় বাতাস খাড়াভাবে সোজা ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হওয়ার মাধ্যমে। অন্যদিকে, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটে যখন জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহের গতিপথে কোনো পর্বত বা উচ্চভূমি বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং বায়ু পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়।

    ২. মেঘের ধরন: পরিচলন বৃষ্টিপাতে সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি হয়, যা ঘন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। অন্যদিকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে সাধারণত স্ট্র্যাটো-কিউমুলাস বা নিম্বোস্ট্যাটাস মেঘ সৃষ্টি হয়।

    ৩. বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি: পরিচলন বৃষ্টিপাত সাধারণত ক্ষণস্থায়ী কিন্তু মুষলধারে বজ্রবিদ্যুৎসহ হয়ে থাকে। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী ও মাঝারি ধরনের অবিরাম বর্ষণরূপে সংঘটিত হতে পারে।

    ৪. ভৌগোলিক বণ্টন: পরিচলন বৃষ্টিপাত প্রধানত নিরক্ষীয় অঞ্চলে (কঙ্গো ও আমাজন অববাহিকা) প্রায় সারা বছর প্রতিদিন বিকেলে দেখা যায়। অপরদিকে, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটে সমুদ্র উপকূলবর্তী পর্বতসংলগ্ন এলাকায় (যেমন—ভারতের চেরাপুঞ্জি, বাংলাদেশের সিলেট এবং হিমালয়ের দক্ষিণ ঢাল)।

    ৫. বৃষ্টির ছায়া অঞ্চল: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং বিপরীত বা অনুবাদ ঢালে জলীয় বাষ্পহীন বায়ু পৌঁছানোর ফলে বৃষ্টিহীন 'বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল' সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরিচলন বৃষ্টিপাতে এ ধরনের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি হয় না।

    সুতরাং দেখা যায়, বায়ু ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কৌশল ও ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে 'ক' ও 'খ' শ্রেণির বৃষ্টিপাতের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন