ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
শিহাব যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনলুলু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেল। হঠাৎ একদিন রাতে আকাশে প্রচণ্ড শব্দে আগুনের গোলা দেখতে পেল। মৃদু মৃদু শব্দ আর আগুনের ঝলকানিতে হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো।
- ক)(1)
ভূমিকম্পের শক্তি পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
- খ)(2)
ম্যাগমা কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি কেন ঘটে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূমিকম্পের তীব্রতা বা শক্তি পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ (বা রিখটার স্কেল)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূ-অভ্যন্তরে উচ্চ চাপ ও তাপে গলিত অবস্থায় থাকা তরল ও উত্তপ্ত শিলা এবং খনিজ পদার্থের মিশ্রণকে ম্যাগমা বলে।
ভূত্বকের নিচে ম্যান্টল বা গুরুমণ্ডলে প্রচণ্ড তাপমাত্রার কারণে শিলা গলে সান্দ্র ও তরল রূপ ধারণ করে। এতে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস ও বাষ্প দ্রবীভূত থাকে। এই গলিত ম্যাগমা যখন ভূত্বকের কোনো ফাটল বা দুর্বল অংশ দিয়ে অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাকৃতিক বিষয়টি হলো 'আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত'।
অগ্ন্যুৎপাত ঘটার প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ভূত্বকের দুর্বল স্থান ও ফাটল: ভূত্বকে বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট ফাটল বা দুর্বল অংশ দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা ও গ্যাস প্রবল চাপে বাইরে বেরিয়ে আসে।
২. ভূ-অভ্যন্তরের উচ্চ চাপ ও তাপ হ্রাস: ভূ-অভ্যন্তরে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্রিয়া ও প্রচণ্ড তাপে শিলা গলে তরলে পরিণত হয় এবং গ্যাসীয় পদার্থ প্রসারিত হতে চায়। কোনো কারণে ওপরের শিলাস্তরের চাপ কমলে ম্যাগমা স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছে তীব্র বেগে নালিপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
৩. ভূ-অভ্যন্তরে বাষ্পের সঞ্চার: ভূত্বকের ফাটল দিয়ে নদী, সাগর বা বৃষ্টির পানি ভূ-অভ্যন্তরে পৌঁছালে তা উত্তাপে পরিণত হয়ে বাষ্পে রূপ নেয়। এই বাষ্প প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে ভূত্বক ভেদ করে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
৪. পাত সঞ্চালন (Plate Tectonics): টেকটনিক প্লেটসমূহের সংঘর্ষ বা অপসরণের কারণে সীমানাবর্তী অঞ্চলে (যেমন প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার', যার অন্তর্ভুক্ত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ) ভূত্বক অস্থিতিশীল হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। মানবজীবন এবং পরিবেশের ওপর অগ্ন্যুৎপাতের ক্ষতিকর ও কল্যাণকর—উভয় ধরনের প্রভাব রয়েছে:
নেতিবাচক বা ধ্বংসাত্মক প্রভাব:
১. জানমালের ক্ষতি: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত উত্তপ্ত লাভা, বিষাক্ত গ্যাস, ছাই ও জ্বলন্ত শিলাখণ্ড নিমেষেই পার্শ্ববর্তী জনপদ, শহর ও কৃষিক্ষেত ধ্বংস করে দেয়।
২. পরিবেশ বিপর্যয় ও বায়ুদূষণ: অগ্ন্যুৎপাতের কারণে প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও ধূলিকণা বাতাসে মিশে বায়ুমণ্ডলকে চরমভাবে দূষিত করে এবং অ্যাসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে।
৩. গৌণ দুর্যোগ: সমুদ্রের তলদেশে অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে বিধ্বংসী সুনামি সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ভূমিকম্প ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগ সংঘটিত হয়।ইতিবাচক বা কল্যাণকর প্রভাব:
১. উর্বর মৃত্তিকা সৃষ্টি: লাভা ও আগ্নেয়ভস্ম কালক্রমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অত্যন্ত উর্বর পলি ও উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা (যেমন রেগুড় মাটি) গঠন করে, যা কৃষিকাজের জন্য খুবই উপযোগী।
২. নতুন ভূমিরূপ ও খনিজ সঞ্চয়: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভার সঞ্চয়ে নতুন নতুন দ্বীপ (যেমন হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ), মালভূমি ও পর্বতের সৃষ্টি হয়। এছাড়া ভূ-অভ্যন্তর থেকে বিভিন্ন মূল্যবান ধাতু ও খনিজ পদার্থ (যেমন তামা, সোনা, হীরা) উপরে উঠে আসে।
৩. পর্যটন ও ভূ-তাপীয় শক্তি: আগ্নেয়গিরি অঞ্চলগুলো আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে এবং ভূ-অভ্যন্তরের তাপ কাজে লাগিয়ে ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।সুতরাং, অগ্ন্যুৎপাত তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনলেও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিতে এটি পৃথিবীর ভূমিরূপ গঠন ও ভূ-তাত্ত্বিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও