ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সুনামি কী?
- খ)(2)
বিচূর্ণীভবনের উপর আবহাওয়ার প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নদী কোন পর্যায়ের তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নদী পর্যায়ের প্রধান সঞ্চয়জাত ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুনামি হলো সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট বিশালাকার এবং ধ্বংসাত্মক সামুদ্রিক ঢেউ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন—উত্তাপের তারতম্য, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত ও আর্দ্রতা সরাসরি শিলার বিচূর্ণীভবনে ভূমিকা রাখে। দিনের বেলা অতিরিক্ত তাপে শিলা প্রসারিত হয় এবং রাতে দ্রুত ঠান্ডা হয়ে সংকুচিত হয়; এর ফলে শিলায় ফাটল ধরে এবং তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়। এছাড়া বৃষ্টিপাতের ফলে শিলার ওপর রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং ফাটলে জমে থাকা পানি বরফে রূপান্তরিত হয়ে আয়তন বৃদ্ধির মাধ্যমে শিলাকে ভেঙে ফেলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নদীটি নদীর 'নিম্ন পর্যায়' বা 'বার্ধক্য পর্যায়'-কে নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে নদীটি অত্যন্ত সর্পিলাকার বা এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হচ্ছে, নদীর মাঝে বালুচর বা দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে এবং নদীর পাশে একটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ অবস্থান করছে।
নদী তার সমভূমি প্রবাহের শেষ অংশে বা নিম্ন পর্যায়ে প্রবেশ করলে ভূমির ঢাল অত্যন্ত কমে যায়। ফলে নদীর স্রোতের বেগ কমে যায় এবং নদী উপত্যকা প্রশস্ত ও অগভীর হয়। পানির পরিমাণ বেশি কিন্তু বহনক্ষমতা কম হওয়ায় নদী সামান্য বাধার সম্মুখীন হলেই এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়। এভাবে বাঁক অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেলে একসময় নদী সোজা পথে চলতে শুরু করে এবং পরিত্যক্ত বাঁকটি 'অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ' হিসেবে থেকে যায়। উদ্দীপকের চিত্রে দৃশ্যমান সর্পিল গতিপথ, চর এবং অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নদীর নিম্ন পর্যায়েরই পরিচায়ক। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নদীর পর্যায়টি হলো 'নিম্ন পর্যায়'। এই পর্যায়ের প্রধান সঞ্চয়জাত ভূমিরূপগুলো হলো প্লাবনভূমি, প্রাকৃতিক বাঁধ এবং ব-দ্বীপ। নিচে এগুলোর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্লাবনভূমি (Floodplain):
- নিম্নগতিতে বর্ষাকালে নদীর দুকূল উপচে বন্যা দেখা দেয়।
- বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় পলিমাটি নদীর তীরবর্তী বিস্তৃত অঞ্চলে স্তরে স্তরে জমা হয়ে যে উর্বর সমভূমি তৈরি করে, তাকে প্লাবন সমভূমি বলে। এটি অত্যন্ত উর্বর এবং কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
২. প্রাকৃতিক বাঁধ (Natural Levee):
- বন্যার সময় নদীর প্রধান স্রোত বাহিত ভারী ও স্থূল পলি, বালু প্রভৃতি নদীর তীরবর্তী প্রান্তে বেশি পরিমাণে সঞ্চিত হয়।
- ক্রমাগত সঞ্চয়ের ফলে নদীর উভয় তীরে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো উঁচু ভূমির সৃষ্টি হয়, যা নদীকে তার স্বাভাবিক প্রবাহে আবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে।
৩. ব-দ্বীপ (Delta):
- নদীর মোহনায় (যেখানে নদী সাগরে পতিত হয়) স্রোতের বেগ একদম কমে যাওয়ায় সমস্ত বাহিত সূক্ষ্ম পলি, কাদা সঞ্চিত হয়ে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ) বা বাংলা 'ব' অক্ষরের মতো নতুন ভূখণ্ড বা দ্বীপ গঠন করে।
- এটি অত্যন্ত উর্বর এবং নদীপ্রবাহ এখানে একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়ে সাগরে মিলিত হয়।
পরিশেষে, নদীর নিম্ন পর্যায় মূলত সঞ্চয় কার্যের জন্য খ্যাত, যার মাধ্যমে উর্বর প্লাবনভূমি, প্রাকৃতিক বাঁধ এবং ব-দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও