জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
তিনটি ভ্রূণীয় স্তরের পরিণতির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মানব শিশু তৈরি হয়। অপরদিকে সদ্য ভূমিষ্ঠ মানব শিশু জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রোটিন নির্মিত অ্যান্টিবডির আশ্রয় নেয়।
- ক)(1)
পরিযান কাকে বলে?
- খ)(2)
FAP এর বৈশিষ্ট্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্তরের পরিণতি ছকের সাহায্যে উপস্থাপন কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রোটিন নির্মিত উপাদানটি কীভাবে কাজ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য, অনুকূল আবহাওয়া কিংবা প্রজননের প্রয়োজনে কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রাণীদের নিয়মিত ও ছন্দময়ভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সাময়িকভাবে গমনাগমন এবং পুনরায় ফিরে আসাকে পরিযান (Migration) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
FAP (Fixed Action Pattern বা নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
১. এটি সহজাত বা জন্মগত আচরণ, যা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল নয়।
২. এটি একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপক (সাইনার বা রিলিজার) দ্বারা সূচনা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়, মাঝপথে বন্ধ করা যায় না।
৩. এটি একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির সকল সদস্যের মধ্যেই অপরিবর্তনীয় ও প্রায় হুবহু একইভাবে দেখা যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি ভ্রূণীয় স্তর হলো একটোডার্ম, মেসোডার্ম এবং এন্ডোডার্ম। নিচে ছকের সাহায্যে এই তিনটি ভ্রূণীয় স্তর থেকে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের পরিণতি তুলে ধরা হলো:
ভ্রূণীয় স্তর পরিণত অঙ্গ ও তন্ত্র ১. একটোডার্ম (Ectoderm) ত্বক ও ত্বকের উপবৃদ্ধি (চুল, নখ), কেন্দ্রীয় ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড), কর্নিয়া ও চোখের লেন্স, পিটুইটারি গ্রন্থি, দাঁতের এনামেল। ২. মেসোডার্ম (Mesoderm) অস্থি ও তরুণাস্থি (কঙ্কালতন্ত্র), পেশিতন্ত্র (ঐচ্ছিক, অনৈচ্ছিক ও হৃৎপেশি), রক্তসংবহন ও লসিকাতন্ত্র (হৃৎপিণ্ড, রক্তনালি), বৃক্ক ও জননতন্ত্র (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়), ডার্মিস। ৩. এন্ডোডার্ম (Endoderm) পৌষ্টিকনালির অন্তঃপ্রাচীর, যকৃত ও অগ্ন্যাশয়, শ্বসনতন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীর (ফুসফুস, ট্রাকিয়া), থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি, মূত্রথলির অন্তঃস্তর। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রোটিন নির্মিত উপাদানটি হলো 'অ্যান্টিবডি' (ইমিউনোগ্লোবুলিন)। এটি প্লাজমা কোষ থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহে প্রবেশকারী অ্যান্টিজেন বা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। অ্যান্টিবডি মূলত নিম্নলিখিত প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে কাজ করে:
১. নিউট্রালাইজেশন (প্রশমন): অ্যান্টিবডি জীবাণু থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত টক্সিন বা ভাইরাসের রিসেপ্টরের সাথে আবদ্ধ হয়ে এদের ক্ষতিকর প্রভাব অকার্যকর ও নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
২. অ্যাগ্লুটিনেশন (পিণ্ডীভবন): অ্যান্টিবডির একাধিক অ্যান্টিজেন-বাইন্ডিং সাইট থাকে। এটি বিভিন্ন জীবাণুকে একসাথে বেঁধে বড় পিণ্ডে পরিণত করে, ফলে জীবাণুরা কোষকে আক্রমণ করতে পারে না এবং এদের সহজে ফ্যাগোসাইটোসিস করা যায়।
৩. প্রিসিপিটেশন (অধঃক্ষেপণ): দ্রবণীয় অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অ্যান্টিবডি অদ্রবণীয় জটিল যৌগ তৈরি করে নিচে তলানি আকারে জমা করে।
৪. অপসোনাইজেশন (চিহ্নিতকরণ): অ্যান্টিবডি জীবাণুর বহিরাবরণে আবৃত হয়ে এদের ফ্যাগোসাইটিক শ্বেতকণিকা (যেমন: ম্যাক্রোফেজ বা নিউট্রোফিল)-এর খাদ্য হিসেবে চিহ্নিত করে, ফলে ফ্যাগোসাইটোসিস বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
৫. কমপ্লিমেন্ট সক্রিয়করণ: অ্যান্টিবডি-অ্যান্টিজেন কমপ্লেক্স রক্তের কমপ্লিমেন্ট প্রোটিনতন্ত্রকে সক্রিয় করে মেমব্রেন অ্যাটাক কমপ্লেক্স (MAC) গঠন করে জীবাণুর কোষে ছিদ্র তৈরি করে লাইসিস ঘটিয়ে জীবাণুকে ধ্বংস করে।
এভাবেই অ্যান্টিবডি সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুসহ মানবদেহকে রোগজীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও