বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    COP' এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    'তাসখন্দ চুক্তি' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উত্ত পোস্টারে পাকিস্তান আমলের কোন ধরনের বৈষম্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বৈষম্য ছাড়াও আরও অনেক বৈষম্যের প্রতিবাদেই সংঘটিত হয় আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    COP-এর পূর্ণরূপ Combined Opposition Party, অর্থাৎ সম্মিলিত বিরোধী দল।

  2. খ)

    ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধের পর ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি মাসে সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় উজবেকিস্তানের তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে তাসখন্দ চুক্তি বলে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটে। এ যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা-অবহেলা প্রকাশ পাওয়ায় পরে ছয় দফার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

  3. গ)

    পোস্টারে পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি অর্থনৈতিক বৈষম্য ফুটে উঠেছে, যার সাথে চাকরি ও সামরিক ক্ষেত্রের বৈষম্যও যুক্ত।

    ছক অনুযায়ী উন্নয়ন খাতে ব্যয় পূর্ব পাকিস্তানে ৩০০০ কোটি টাকা, পশ্চিম পাকিস্তানে ৬০০০ কোটি টাকা। বৈদেশিক সাহায্যের ২০ ভাগ পায় পূর্ব পাকিস্তান, ৮০ ভাগ পায় পশ্চিম পাকিস্তান। কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ১৫ জন, পশ্চিমের ৮৫ জন; সামরিক বিভাগে ১০ জন ও ৯০ জন। আবার চাল, আটা, সরিষার তেল ও সোনার দামও পূর্ব পাকিস্তানে বেশি। এভাবে পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত ও শোষণ করা হয়েছিল।

  4. ঘ)

    উক্ত অর্থনৈতিক বৈষম্য ছাড়াও পাকিস্তান আমলে বাঙালি আরও নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয় এবং এসব বৈষম্যের প্রতিবাদেই স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে ওঠে।

    ১. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য: ক্ষমতা ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে ছিল। রাজধানী ও কেন্দ্রীয় সরকারও ছিল পশ্চিমে।
    ২. সামরিক বৈষম্য: সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য এবং শীর্ষ পদ পাঞ্জাবিদের দখলে ছিল। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধেও পূর্ব পাকিস্তান ছিল অরক্ষিত।
    ৩. শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য: বাঙালিকে শিক্ষায় পিছিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত আসে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করার চেষ্টা থেকেই ভাষা আন্দোলনের সূচনা।
    ৪. আন্দোলনের পরম্পরা: এ বৈষম্যের প্রতিবাদেই ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন, অসহযোগ আন্দোলন এবং শেষে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়।

    সুতরাং, সর্বক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রতিবাদেই বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে ওঠে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন