পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: একটি উপজেলায় জন্মনিবন্ধন, ভূমি তথ্য ও সনদ আবেদন অনলাইনে করা যায়। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে সেবার নিয়ম, সময় ও ফি জানানো থাকে। আবেদনকারী ঘরে বসেই আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারে এবং মোবাইলে বার্তা পায়। ফলে সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমে যায়।
দৃশ্যপট-২ : সুবিদপুর উপজেলায় অনলাইনে সেবা চালু করা হলেও অনেক নাগরিকের ইন্টারনেট সুবিধা নেই। অফিসে পর্যাপ্ত কম্পিউটার ও প্রশিক্ষিত জনবল নেই। প্রায়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকে। ফলে সুফল সবাই সমানভাবে পাচ্ছে না।
- ক)(1)
ই-গভর্নেন্স কাকে বলে?
- খ)(2)
হ্যাকিং রোধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এ ইঙ্গিতকৃত বিষয়ের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত বিষয়ের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক সমাধানের উপায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারি সেবা, তথ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নাগরিকদের কাছে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাকে ই-গভর্নেন্স (E-Governance) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাকিং হলো অনুমতি ব্যতীত কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা ডেটাবেজে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে তথ্য চুরি, বিকৃতি বা ক্ষতিসাধন করা। ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। হ্যাকিং প্রতিরোধ করা না গেলে গোপন তথ্য বেহাত হতে পারে, প্রশাসনিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারিত হতে পারে। তাই তথ্য ও ডিজিটাল ব্যবস্থার নিরাপত্তা রক্ষায় হ্যাকিং রোধের ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১ এ ইঙ্গিতকৃত বিষ্যের সাথে পাঠ্যবইয়ের 'ই-গভর্নেন্সের সুবিধা বা সুফল'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনা, তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবাকে জনবান্ধব করা। দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, একটি উপজেলায় জন্মনিবন্ধন, ভূমির তথ্য ও বিভিন্ন সনদ আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। নাগরিকরা ঘরে বসেই সেবার অগ্রগতি জানতে পারছেন এবং নোটিফিকেশন পাচ্ছেন, যার ফলে সময়, অর্থ ও যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে গেছে। এটি সরাসরি ই-গভর্নেন্সের ইতিবাচক দিক বা সুবিধার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত বিষয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ের ‘ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা বা চ্যালেঞ্জসমূহ’-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
সুবিদপুর উপজেলায় ইন্টারনেট সুবিধার অভাব, পর্যাপ্ত কম্পিউটার ও প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে ই-গভর্নেন্সের পূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে না। এগুলো মূলত ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায় বা ডিজিটাল বৈষম্য (Digital Divide)।এই সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দুর্গম অঞ্চলসহ সর্বত্র দ্রুতগতির নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা।
২. প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনবল তৈরি: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইসিটি বিষয়ক আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
৩. ডিজিটাল লিটারেসি বা নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৪. প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ: সার্ভার ও ওয়েবসাইটের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানের জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ আইটি সাপোর্ট টিম গঠন করা।
উক্ত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে ই-গভর্নেন্সের সুফল সকলের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও