বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: করিম জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে প্রাচীন বাংলার একটি মানচিত্র দেখতে পায়। করিমের বাবা বলে, এই মানচিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য জনপদ রয়েছে, সেটি গজাা-ভাগীরথীর পূর্বতীর থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত।দৃশ্যকল্প-২: শর্মিলা বগুড়ার মহাস্থানগড় বেড়াতে যায়। সেখানে সে প্রাচীন বাংলার অনেক নিদর্শন দেখতে পায়। পাথরের তৈরি চাকতিতে খোদাই করা লিপি দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়।
- ক)(1)
হেলেনিক সংস্কৃতি কী?
- খ)(2)
মিশরকে নীল নদের দান বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লেখিত মানচিত্রে প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের নির্দেশ রয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ যে জনপদের চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হেলেনিক সংস্কৃতি হলো গ্রিসের প্রধান শহর এথেন্সকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি।
- খ)
গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের মতে, মিশর নীল নদের দান। নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি জমে জমি উর্বর হতো এবং সেখানে নানা ধরনের ফসল জন্মাত। এ কারণেই মিশরকে নীল নদের দান বলা হয়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১-এর মানচিত্রে প্রাচীন বাংলার সমতট জনপদের নির্দেশ রয়েছে, কারণ সমতট গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
সমতট জনপদ। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশ নিয়ে সমতট গঠিত ছিল। এটি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায়, বঙ্গের পাশাপাশি অবস্থিত ছিল। এর রাজধানী ছিল বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত। কুমিল্লার ময়নামতিতে শালবন বিহারসহ কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। কেউ কেউ বর্তমান কুমিল্লাকেই সমতটের প্রাচীন নাম বলে মনে করেন।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২-এ বগুড়ার মহাস্থানগড় এবং পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপির কথা বলা হয়েছে, যা পুণ্ড্র জনপদকে নির্দেশ করে। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
১. বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ জনপদ গড়ে উঠেছিল। এর রাজধানী পুণ্ড্রনগর পরে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
২. মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। এখানকার নিদর্শনসমূহ উন্নত নগরজীবনের সাক্ষ্য দেয়।
৩. এখানে পাথরের চাকতিতে খোদাই করা মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাচীনতম শিলালিপি বলে ধারণা করা হয়।সুতরাং, প্রত্ননিদর্শন ও নগরসভ্যতার বিচারে পুণ্ড্র প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও