অর্থনীতি ২য় পত্র • বাংলাদেশের শিল্প • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মাসুদ ও তার স্ত্রী বাঁশ, বেত ও পাট দিয়ে বিভিন্ন দৈনন্দিন ব্যবহার্য ও সৌখিন জিনিস তৈরি করেন এবং সেগুলো বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের মূলধন কম থাকায় এবং উপকরণ দুষ্প্রাপ্য হওয়ার ফলে অনেক সময় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। 'বেকারত্ব নিরসন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।
- ক)(1)
বৃহৎ শিল্প কাকে বলে?
- খ)(2)
রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে শিল্পের কথা বলা হয়েছে তার তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লিখিত শিল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে সাধারণত বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করা হয় এবং বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে বৃহৎ শিল্প বলে। (জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদন খাতে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে ৫০ কোটি টাকার অধিক স্থায়ী সম্পদ বা ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকলে তাকে বৃহৎ শিল্প বলা হয়)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (EPZ) মূলত দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণ এবং দ্রুত শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়। এর মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রধান ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মাসুদ ও তার স্ত্রীর বাঁশ, বেত ও পাটজাত পণ্যের তৈরির কাজটি কুটির শিল্পের অন্তর্গত। কুটির শিল্পের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. পারিবারিক শ্রমভিত্তিক: এ ধরনের শিল্পে প্রধানত পরিবারের সদস্যদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায় মাসুদ ও তার স্ত্রী নিজেরা কাজ করেন।
২. স্বল্প মূলধন ও সাধারণ প্রযুক্তি: কুটির শিল্পে অত্যন্ত সীমিত পরিমাণ মূলধন এবং সাধারণ দেশীয় ও সনাতন যন্ত্রপাতি বা হাতের নৈপুণ্য ব্যবহার করা হয়।
৩. স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: এ শিল্পে প্রধানত স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কাঁচামাল (যেমন: বাঁশ, বেত, পাট ইত্যাদি) ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ও সৌখিন দ্রব্যাদি প্রস্তুত করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে নির্দেশিত কুটির শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রথমত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব নিরসন: বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। কুটির শিল্প স্বল্প মূলধনে বিপুল গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের, বিশেষ করে নারীদের জন্য ঘরে বসেই আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে, যা বেকারত্ব হ্রাসে কার্যকর।
দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ: কুটির শিল্প স্থানীয় সংস্কৃতি ও লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঁশ, বেত ও পাটের তৈরি সৌখিন সামগ্রী দেশের নিজস্ব ঐতিহ্যকে ধারণ করে।
তৃতীয়ত, স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার: কুটির শিল্পে দেশীয় কাঁচামালের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, ফলে অপচয় কমে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল থাকে।
চতুর্থত, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয়: কুটির শিল্পের উৎপাদিত হস্তশিল্প ও সৌখিন পণ্য আজ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।
অতএব, মূলধন ও উপকরণের সংকট দূর করে কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখা বাংলাদেশের সার্বিক টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থেই অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও