হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

বিজয় বাবু ছিলেন গ্রামের মাতব্বর। তিনি ছিলেন খুবই অত্যাচারী। তার অত্যাচারে সবাই ভীত। তিনি কোনো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মানতেন না। কিন্তু তার পুত্র সৌমেনের ঈশ্বরের প্রতি ছিল অবিচল ভক্তি ও বিশ্বাস। যেখানেই ধর্মীয় অনুষ্ঠান হতো সেখানেই যেত। কিন্তু তার পিতা সৌমেনের এই আচরণ মানতে পারত না। এ জন্য তাকে শাস্তিও দিত। কিন্তু সৌমেন সব বাধা উপেক্ষা করে ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট থাকত। তার বিশ্বাস 'ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে'।

  1. ক)

    হিন্দুধর্মের মূলে কে?

    (1)
  2. খ)

    ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়- কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিজয় বাবুর চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায় তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে'। উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন ভগবান বা ঈশ্বর স্বয়ং।

  2. খ)

    ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়—অর্থাৎ ঈশ্বর একজনই, তিনি ছাড়া এ জগতে দ্বিতীয় কেউ নেই। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং নিজ গুণে সৃষ্টির মধ্যে বিরাজ করছেন। ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কিছুই নেই। দেব-দেবীরা সেই এক ঈশ্বরেরই বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশ। তাই আমাদের উচিত সবসময় ঈশ্বরের নাম জপ করা।

  3. গ)

    উদ্দীপকের বিজয় বাবুর চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের হিরণ্যকশিপু চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

    হিরণ্যকশিপু ছিলেন সত্যযুগের দৈত্যরাজ। তিনি ছিলেন হরিবিদ্বেষী ও অত্যাচারী। তাঁর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন হরিভক্ত। প্রহ্লাদের ভক্তি দেখে তিনি ক্রুদ্ধ হন এবং তাঁকে বিষমিশ্রিত অন্ন খাওয়ানো, হাতির পায়ের নিচে ফেলা, সর্পের প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করা প্রভৃতি শাস্তি দেন। কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় প্রহ্লাদ প্রতিবার বেঁচে যান। শেষে নৃসিংহরূপী শ্রীহরি হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন।

    উদ্দীপকে বিজয় বাবুও গ্রামের অত্যাচারী মাতব্বর। তিনি কোনো ধর্মীয় আচার মানেন না এবং ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট পুত্র সৌমেনকে শাস্তি দেন। কিন্তু সৌমেন সব বাধা উপেক্ষা করে ধর্মে অবিচল থাকে। এ ঘটনা হিরণ্যকশিপু ও প্রহ্লাদের কাহিনির সাথে মিল রাখে।

    সুতরাং, অত্যাচার ও ধর্মবিরোধিতার দিক থেকে বিজয় বাবুর সাথে হিরণ্যকশিপুর মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    “ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে”—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে, আর ধর্ম রক্ষিত হলে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে। ধার্মিক সাময়িক কষ্ট পেলেও পরিণামে ধর্মের জয় হয়।

    ১. ধার্মিকের মানসিক শান্তি: ধার্মিক সদা সন্তুষ্ট ও সদানন্দ থাকেন। প্রাপ্তিতে তিনি অহংকারী হন না, অপ্রাপ্তিতে বিষণ্ণ হন না। সৌমেনও বাধা ও শাস্তির মধ্যে মানসিকভাবে অবিচল থেকেছে।
    ২. ধর্মপথে চললে রক্ষা: প্রহ্লাদের উপাখ্যানে দেখা যায়, বিষ, হাতি ও সাপের আক্রমণ থেকে ধর্মই প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছে। অন্যদিকে অধর্মের পথে থাকা হিরণ্যকশিপু নৃসিংহের হাতে নিহত হন। উদ্দীপকের সৌমেনও ধর্মে আস্থা রেখেছে।
    ৩. অধার্মিকের পরিণতি: অধার্মিক ব্যক্তি অতৃপ্ত, কাম-ক্রোধ-লোভে তাড়িত হন। কুকর্মের ফলে ইহলোকে দণ্ড ও পরলোকে নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন। বিজয় বাবুর অত্যাচার তাঁকে সমাজে ঘৃণিত করবে।
    ৪. পরলোকের ফল: ধার্মিক ইহলোকে শান্তি এবং পরলোকে স্বর্গ ও মোক্ষ লাভ করেন।

    সুতরাং, ইহলোক ও পরলোকে ধার্মিকের কল্যাণ হয় বলে ‘ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে’ উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন