পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' রাজ্যের জনগণ 'খ' রাজ্যের শাসক দ্বারা শোষিত ও বঞ্চিত হয়। 'ক' রাজ্যের কিছু ব্যক্তিত্ব শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষার জন্য 'খ' রাজ্যের শাসকগোষ্ঠীকে চাপ দেয় এবং নির্বাচনের আহ্বান জানায়। নির্বাচনে 'ক' রাজ্যের ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টটি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।
- ক)(1)
কে প্রথম পাকিস্তানের সামরিক আইন জারি করেন?
- খ)(2)
১১ দফা আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাকিস্তান আমলের কোন নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের প্রথম সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা (১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দমননীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ (সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ) যে ১১টি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবিসংবলিত কর্মসূচি ঘোষণা করে, তাকে ১১ দফা আন্দোলন বলা হয়। এই কর্মসূচিতে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া, কৃষকদের স্বার্থরক্ষা, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয়করণের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলের ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জনগোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হয়। এই শোষণ ও বঞ্চনা প্রতিহত করে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পূর্ব বাংলার নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হন। উদ্দীপকে 'ক' রাজ্যের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টের গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং জয়লাভের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে এবং ২১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে অভূতপূর্ব ও বিপুল ব্যবধানে বিজয় লাভ করে। উদ্দীপকের 'ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টের বিপুল ভোটে জয়লাভ' ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়ের দিকটিকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের তাৎপর্য তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে ছিল সুদূরপ্রসারী এবং অবিস্মরণীয়।
প্রথমত, এ নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ও অপশাসনের অবসান ঘটে। জনগণ মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপরীতে যুক্তফ্রন্টের অসাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে সুস্পষ্টভাবে সমর্থন দেয়। এটি ছিল শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শোষিত বাঙালি জাতির প্রথম শক্তিশালী ব্যালট বিপ্লব।
দ্বিতীয়ত, যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচিতে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি, স্বায়ত্তশাসন এবং কৃষি-শিল্প সংক্রান্ত দাবিগুলো প্রাধান্য পেয়েছিল। এই বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে এবং পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বাধিকার অর্জনের পথ সুদৃঢ় হয়।
পরিশেষে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের বিজয় বাঙালি জাতিকে এই আত্মবিশ্বাস জোগায় যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে যেকোনো অন্যায় ও ঔপনিবেশিক শাসন পরাভূত করা সম্ভব। এই নির্বাচনী রায়ই পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬-এর ৬ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে গভীর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও