সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ইউসুফ সাহেব কন্যা আয়েশাকে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। আয়েশাকে সবাই বিদেশি ভেবে ভুল করে। কারণ সে দেখতে অনেকটাই জার্মান মায়ের মতো। ইউসুফ সাহেব কন্যাকে বাংলাদেশ ঘুরিয়ে দেখাতে চান এবং বিদেশি স্ত্রীকে দেশি শাড়ি উপহার দিতে চান। তিনি স্ত্রীর জন্য রাজশাহী থেকে সিল্ক শাড়ি, টাঙ্গাইল থেকে তাঁত শাড়ি এবং নারায়ণগঞ্জের ডেমরা থেকে জামদানি শাড়ি কিনেন। বাংলাদেশের এসব বৈচিত্র্যে আয়েশা মুগ্ধ।
- ক)(1)
সংস্কৃতি কাকে বলে?
- খ)(2)
কাব্য ও কাব্যগ্রন্থের সংস্কৃতিগত পার্থক্য কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আয়েশা, সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী কোন উপাদানের ফল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে আয়েশার মুগ্ধ হওয়া সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবের ফল — ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের জীবনযাপনের সামগ্রিক প্রণালী বা উপায়কে সংস্কৃতি বলে। সমাজবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলরের মতে, "সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিক রূপ যার অন্তর্ভুক্ত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইন, প্রথা এবং সমাজের একজন সদস্য হিসেবে অর্জিত অন্যান্য দক্ষতা ও অভ্যাস।"
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাব্য ও কাব্যগ্রন্থের মধ্যে সংস্কৃতিগত পার্থক্য মূলত অভৌতিক ও ভৌতিক সংস্কৃতির পার্থক্যের অনুরূপ। কাব্য হলো কবির চিন্তা, অনুভূতি, আবেগ ও ভাবনার বহিঃপ্রকাশ, যা ধরা বা ছোঁয়া যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়। তাই কাব্য সংস্কৃতিগতভাবে অভৌতিক সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে, কাব্যগ্রন্থ হলো মুদ্রিত কাগজ, কালি ও মলাটে বাঁধানো একটি দৃশ্যমান বস্তু, যা ধরা ও ছোঁয়া যায়। ফলে কাব্যগ্রন্থ হলো বস্তুগত বা ভৌতিক সংস্কৃতি। অতএব, কাব্য হলো অভৌতিক সংস্কৃতি এবং কাব্যগ্রন্থ হলো বস্তুগত বা ভৌতিক সংস্কৃতি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আয়েশা সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী 'জৈবিক উপাদান' বা 'বংশগতি উপাদানের' ফল।
মানুষের গায়ের রঙ, চুলের ধরন, চোখের রঙ, শারীরিক গঠন, নাক ও মুখের আকৃতি ইত্যাদি বংশানুক্রমিকভাবে পিতা-মাতা থেকে সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সমাজবিজ্ঞানের জৈবিক উপাদানের অন্তর্গত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইউসুফ সাহেবের কন্যা আয়েশা দেখতে অনেকটাই তার জার্মান মায়ের মতো। এ কারণে বাংলাদেশে আসার পর সবাই তাকে ভুলবশত বিদেশি মনে করে। আয়েশার এই বাহ্যিক রূপ ও শারীরিক সাদৃশ্য তার মায়ের জৈবিক বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত। সমাজবিজ্ঞান অনুযায়ী মানুষের দৈহিক বৈচিত্র্য ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নির্ধারণে জৈবিক বা বংশগতীয় উপাদান প্রধান ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, আয়েশার এই অবস্থাটি সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী জৈবিক উপাদানের সুস্পষ্ট ফল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আয়েশার মুগ্ধ হওয়া সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী 'ভৌগোলিক উপাদান'-এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় প্রভাবের সমন্বিত ফল।
ভৌগোলিক পরিবেশ মানুষের জীবনধারা, পেশা, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং লোকসংস্কৃতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই প্রভাব বিস্তার করে। প্রত্যক্ষ প্রভাবের ফলে মানুষ সরাসরি প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ ও উপকরণ তৈরি করে। অন্যদিকে পরোক্ষ প্রভাবের ফলে মানুষের মানসিক বিকাশ, রুচি, ঐতিহ্য, শিল্পসংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইউসুফ সাহেব তার স্ত্রীর জন্য রাজশাহী থেকে রেশম বা সিল্ক শাড়ি, টাঙ্গাইল থেকে তাঁতের শাড়ি এবং নারায়ণগঞ্জের ডেমরা থেকে বিখ্যাত জামদানি শাড়ি ক্রয় করেন। এসব পণ্যের বিকাশ মূলত অঞ্চলগুলোর ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। রাজশাহীর অনুকূল জলবায়ু ও তুতগাছের চাষ রেশম শিল্পের ভিত্তি, টাঙ্গাইল ও ডেমরার আবহাওয়া এবং নদীমাতৃক আর্দ্র পরিবেশ সুতা ও সূক্ষ্ম তাঁতবস্ত্র তৈরির জন্য ঐতিহাসিকভাবে উপযোগী। এগুলো ভৌগোলিক উপাদানের প্রত্যক্ষ প্রভাব। আবার এই ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পগুলো যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা বাঙালি সংস্কৃতি, শিল্পবোধ ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে, যা ওই ভৌগোলিক পরিবেশেরই পরোক্ষ রূপ।
আয়েশা যখন বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন অঞ্চলের এই প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় উৎপাদন দেখে বিমোহিত হয়, তখন সে মূলত ভৌগোলিক পরিবেশের দ্বারা সৃষ্ট প্রত্যক্ষ উৎপাদন এবং তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির পরোক্ষ প্রভাব উপলব্ধি করে। অতএব, আয়েশার মুগ্ধ হওয়া সমাজজীবনে ভৌগোলিক উপাদানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবের যথার্থ প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও