সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ব্যাংকার দম্পতি মিসেস শারমীন ও মি. সাজেদ সকালে একসাথে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। অফিস শেষে মিসেস শারমিন বাসায় ফিরে সন্তানদের দেখাশুনা, রান্নার তদারকি, সংসারের যাবতীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। মি. সাজেদ অফিস শেষে ক্লাবে যান অথবা টিভি দেখেন, বিশ্রাম নেন। মি. সাজেদ মনে করেন সাংসারিক এসব দায়িত্ব পালন তার কাজ নয়। বিশ্রামহীন, বিনোদনহীন মিসেস শারমীন মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। অফিস ও সাংসারিক দায়িত্ব কোনোটাই ঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না।
- ক)(1)
সামাজিক অসমতা কাকে বলে?
- খ)(2)
সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বত্র লক্ষণীয় - ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সামাজিক অসমতার কোন ধরন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অবস্থা সমাজ প্রগতির অন্তরায়— সুচিন্তিত মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজে সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা, মর্যাদা ও সম্পদের অসম বা বৈষম্যমূলক বণ্টনকে সামাজিক অসমতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক স্তরবিন্যাস মানব সমাজের একটি সর্বজনীন বৈশিষ্ট্য। স্থান-কাল-পাত্রভেদে রূপ ভিন্ন হলেও পৃথিবীর সব মানব সমাজেই কোনো না কোনো মানদণ্ডে (যেমন— ধনসম্পদ, ক্ষমতা, মর্যাদা বা বংশমর্যাদা) মানুষের মধ্যে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ বিদ্যমান ছিল এবং আছে। প্রাচীন দাস প্রথা বা সামন্ত সমাজ থেকে শুরু করে বর্তমান আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজেও এই শ্রেণিভেদ সুস্পষ্ট। তাই সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বত্র লক্ষণীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামাজিক অসমতার 'লৈঙ্গিক অসমতা' (Gender Inequality) বা জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য লক্ষণীয়।
জেন্ডারভিত্তিক অসমতা হলো সমাজ কর্তৃক নির্ধারিত নারী ও পুরুষের মধ্যে ভূমিকার বৈষম্যমূলক বিভাজন, যেখানে নারীকে পুরুষের তুলনায় অধস্তন বা কেবল গৃহস্থালির কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মনে করা হয়। উদ্দীপকে মিসেস শারমীন ও মি. সাজেদ উভয়ই পেশাগতভাবে ব্যাংকার হলেও অফিস শেষে মি. সাজেদ অবসর ও বিনোদন উপভোগ করেন, আর মিসেস শারমীনকে ঘরের যাবতীয় রান্নাবান্না ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব একা পালন করতে হয়। মি. সাজেদ মনে করেন সাংসারিক দায়িত্ব তার নয়। পুরুষতান্ত্রিক এই মানসিকতা এবং দায়িত্বের বৈষম্যমূলক বণ্টন জেন্ডারভিত্তিক অসমতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত লৈঙ্গিক অসমতার অবস্থা সমাজ প্রগতির অন্তরায়— বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
সমাজ প্রগতি বলতে বোঝায় সমাজের প্রতিটি সদস্যের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধন করা। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, বাইরে সমান দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও শারমীনকে ঘরে এসে একাকী সাংসারিক কাজ সামলাতে হয়। ফলে তিনি বিশ্রামহীন হয়ে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং তাঁর অফিস ও সাংসারিক জীবন দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সমাজের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীদের ওপর এমন দ্বিমুখী কাজের বোঝা চাপিয়ে তাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকে বিঘ্নিত করলে তাদের পূর্ণ সক্ষমতার বিকাশ অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে একদিকে নারী উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, অন্যদিকে পরিবারে পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি পায় এবং সন্তানদের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ব্যাহত হয়।
সুতরাং, সমাজের অর্ধেক অংশকে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য ও মানসিক চাপে রেখে সার্বিক সমাজ প্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। তাই উদ্দীপকের এই অবস্থা সমাজ প্রগতির অন্যতম বড় অন্তরায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও