Combined Board ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
11টি প্রশ্ন
- 1.
দৃশ্যকল্প-১ঃ শহিদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ এখনও কুসংস্কারে বিশ্বাস করে। জ্বীন - ভূত ও আত্মা-প্রেতাত্মার ধারণা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। অসুখ-বিসুখে ঝাঁড়-ফুঁক, পানিপড়া, তাবিজ-কবিরাজই তাঁদের ভরসা। যা কিছু ঘটে তা অদৃশ্যের লিখন বলে তারা মনে করে।দৃশ্যকল্প-২ঃ ঢাকায় বসবাসরত আসিফ অফিসে যাওয়ার পথে সবসময় শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের দলবেঁধে হেঁটে অফিসে যেতে দেখে। এত পরিশ্রম করেও তারা ন্যায্য প্রাপ্যটুকু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে, মালিকরা আরও বেশি সম্পদের মালিক হচ্ছে। মাঝে মাঝে শ্রমিক আন্দোলন দেখে সে আলোড়িত হয়।
- 2.
মেঘনার একটি শাখানদী দ্বারা আলীপুর গ্রামটি এক সময় মূল শহর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। ঝড়- বৃষ্টির সময় নদী উত্তাল থাকলে শহরের সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতো। এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি হতো। পরবর্তীতে সরকারের উদ্যোগে এখানে একটি সেতু নির্মাণ হওয়ায় এ সকল অসুবিধা দূর হয়। চিকিৎসা, শিক্ষাসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে লোকজন সহজেই শহরে আসতে পারে। তাছাড়া এ এলাকায় জমির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে। ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
- 3.
ব্যাংকার দম্পতি মিসেস শারমীন ও মি. সাজেদ সকালে একসাথে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। অফিস শেষে মিসেস শারমিন বাসায় ফিরে সন্তানদের দেখাশুনা, রান্নার তদারকি, সংসারের যাবতীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। মি. সাজেদ অফিস শেষে ক্লাবে যান অথবা টিভি দেখেন, বিশ্রাম নেন। মি. সাজেদ মনে করেন সাংসারিক এসব দায়িত্ব পালন তার কাজ নয়। বিশ্রামহীন, বিনোদনহীন মিসেস শারমীন মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। অফিস ও সাংসারিক দায়িত্ব কোনোটাই ঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না।
- 4.
রাব্বি গত কয়েক বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি গোষ্ঠীর সাথে বসবাস করে তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি, বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান দেখে তথ্য সংগ্রহ করে আসছে। রাব্বির ইচ্ছা তথ্য সংগ্রহ শেষ করে এসব তথ্যকে বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণা পুস্তক রচনা করা।
- 5.
ইউসুফ সাহেব কন্যা আয়েশাকে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। আয়েশাকে সবাই বিদেশি ভেবে ভুল করে। কারণ সে দেখতে অনেকটাই জার্মান মায়ের মতো। ইউসুফ সাহেব কন্যাকে বাংলাদেশ ঘুরিয়ে দেখাতে চান এবং বিদেশি স্ত্রীকে দেশি শাড়ি উপহার দিতে চান। তিনি স্ত্রীর জন্য রাজশাহী থেকে সিল্ক শাড়ি, টাঙ্গাইল থেকে তাঁত শাড়ি এবং নারায়ণগঞ্জের ডেমরা থেকে জামদানি শাড়ি কিনেন। বাংলাদেশের এসব বৈচিত্র্যে আয়েশা মুগ্ধ।
- 6.
- 7.
ব্যাংকার রফিক সাহেব তার চাচাতো বোন শোভাকে বিবাহ করে। তার স্ত্রী শোভা ২ বৎসরের ১টি ছোট সন্তান রেখে হঠাৎ করেই মৃত্যুবরণ করে। আকস্মিক এ মৃত্যুতে পরিবারের সবাই মুষড়ে পড়ে। ছোট সন্তানটির ভবিষ্যত নিয়ে সবাই চিন্তিত। শোভার ছোট বোন দিবা রফিক সাহেবের বাসায় থেকেই মাস্টার্সে পড়ছে এবং ছোট সন্তানটির দেখাশুনা করছে। পরিবারের সবাই দিবার সাথে রফিকের বিবাহের চিন্তা করছে।
- 8.
দৃশ্যকল্প-এক: আরও দশঘর পরিবারের সাথে রাধানাথ বর্মণের পরিবার কক্সবাজারের জেলে পল্লিতে বাস করে। মাছধরাকে কেন্দ্র করেই পরিবারগুলোর জীবন, জীবিকা, উৎসব, আনন্দ। যেকোনো প্রতিকূলতাকে তারা একসাথে মোকাবেলা করে।দৃশ্যকল্প-দুই: স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময়ই রাধানাথ বর্মণের। মেধা শিক্ষকদের নজর কাড়ে। বাবা-কাকার সাথে মাছধরার পাশাপাশি তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে থাকেন এবং উচ্চশিক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। বর্তমানে তিনি সমাজ গবেষণায় ব্যস্ত।
- 9.
মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্ত্রী-সন্তানসহ নকীবের বসবাস। এছাড়া গ্রাম হতে তাদের নিঃসন্তান বিধবা ফুফু ২ বছর যাবৎ তাদের সাথে আছে। পরিবারের সমস্ত ব্যয় নির্বাহ করে নকীব ও তার বাবা। নকীবের সন্তানরা প্রতিদিন সকালে তাদের দাদির কাছে আরবী পড়ে। মা ও ফুফু তাদের স্কুলের পড়া তৈরি করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন বিকেলে তারা চাচার সাথে মাঠে বা পার্কে যায়। নকীবের ফুফু বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেয়ার কাজটি করে।
- 10.
বাজিতপুর গ্রামের বর্গাচাষী রহিম মিয়ার আজ খুশির দিন। কেননা, নতুন ফসল কেটে সে আজ বাড়িতে তুলেছে। রহিমের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরাও আজ খুব আনন্দিত। তারা মায়ের কাছে নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠা ও পায়েস খাওয়ার আবদার করছে। রহিম মিয়ার মনে দুঃখ, কষ্টে ফলানো ফসল অন্যের ঘরে চলে যায়। যদি নিজের কিছু জমি থাকতো তাহলে এ কষ্ট আর থাকতো না।
- 11.
খাবার হোটেলের কর্মী রহমতের স্বল্প উপার্জনে পরিবারের খাওয়া-পরা চললেও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা চলে না। একদিন সুযোগ বুঝে সে ক্যাশ বাক্স থেকে কিছু টাকা সরিয়ে নেয়। পরদিন পত্রিকায় একটি সংবাদে তার চোখ আটকে যায়। একজন রিকশাচালক তার রিকশায় ফেলে যাওয়া টাকার ব্যাগ আত্মসাৎ না করে মালিকের কাছে পৌছে দেয়। রহমত সংবাদটি পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, চুরি করা টাকা ক্যাশ বাক্সে রেখে দিবে।