সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ব্যাংকার রফিক সাহেব তার চাচাতো বোন শোভাকে বিবাহ করে। তার স্ত্রী শোভা ২ বৎসরের ১টি ছোট সন্তান রেখে হঠাৎ করেই মৃত্যুবরণ করে। আকস্মিক এ মৃত্যুতে পরিবারের সবাই মুষড়ে পড়ে। ছোট সন্তানটির ভবিষ্যত নিয়ে সবাই চিন্তিত। শোভার ছোট বোন দিবা রফিক সাহেবের বাসায় থেকেই মাস্টার্সে পড়ছে এবং ছোট সন্তানটির দেখাশুনা করছে। পরিবারের সবাই দিবার সাথে রফিকের বিবাহের চিন্তা করছে।

  1. ক)

    'জৈবিক বন্ধনের সামাজিক স্বীকৃতিই জ্ঞাতিসম্পর্ক'- উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    বিবাহ কীভাবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শোভার সাথে রফিক সাহেবের বিবাহটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত দিবার সাথে রফিকের বিবাহ কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "জৈবিক বন্ধনের সামাজিক স্বীকৃতিই জ্ঞাতিসম্পর্ক"— উক্তিটি সমাজবিজ্ঞানী ডেভিড জি. ম্যান্ডেলবাম (David G. Mandelbaum)-এর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিবাহ হলো নারী ও পুরুষের মধ্যে একটি সামাজিকভাবে ও আইনগতভাবে স্বীকৃত সম্পর্ক, যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মানুষের যৌনজীবনকে শৃঙ্খলিত ও বিধিবদ্ধ করে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা, অবাধ যৌনাচার ও অনৈতিকতা রোধ করে। পাশাপাশি এটি সন্তান উৎপাদন, তাদের বৈধতা প্রদান এবং ভরণপোষণের সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেয়, যার ফলে সমাজব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্থায়িত্ব বজায় থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শোভার সাথে রফিক সাহেবের বিবাহটি পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের রীতির ভিত্তিতে 'প্যারালাল কাজিন বিবাহ' (Parallel-cousin marriage) বা সমান্তরাল জ্ঞাতি বিবাহের অন্তর্ভুক্ত।

    সমাজবিজ্ঞানে নিজ বংশ বা আত্মীয়তার ভেতর বিবাহকে অন্তর্বিবাহ বলে। সমান্তরাল জ্ঞাতি বা প্যারালাল কাজিন বিবাহ হলো এমন বিবাহ, যেখানে বাবার ভাইয়ের (চাচা) সন্তান অথবা মায়ের বোনের (খালা) সন্তানের সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রফিক সাহেব তার আপন চাচাতো বোন শোভাকে বিয়ে করেছেন। যেহেতু শোভা রফিকের পিতার ভাইয়ের (চাচা) কন্যা, তাই সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই বিবাহটি সমান্তরাল জ্ঞাতি বা প্যারালাল কাজিন বিবাহ। এটি মূলত মুসলিম সমাজে প্রচলিত অন্তর্বিবাহরীতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত দিবার সাথে রফিকের সম্ভাব্য বিবাহটি সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে 'শ্যালিকা বিবাহ' বা 'সোরোরেট' (Sororate marriage), যা পারিবারিক স্থায়িত্ব ও মাতৃহীন সন্তানের সুরক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার অবিবাহিত ছোট বোন বা শালিকাকে বিয়ে করার রীতিকে সমাজবিজ্ঞানে সোরোরেট বা শ্যালিকা বিবাহ বলা হয়। উদ্দীপকে শোভার আকস্মিক মৃত্যুতে তার মাত্র ২ বছরের ছোট সন্তানটি মাতৃহীন হয়ে পড়ে। শোভার ছোট বোন দিবা ইতোমধ্যে রফিকের বাসায় থেকে পড়াশোনা করার পাশাপাশি শিশুটির সার্বিক দেখাশোনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা দিবার সাথে রফিকের বিয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

    এই বিবাহটির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ:
    ১. মাতৃহীন শিশুর নিরাপত্তা ও যত্ন: সৎমায়ের আগমন ঘটলে শিশুটি অবহেলা বা অযত্নের শিকার হতে পারে—এমন সামাজিক আশঙ্কা থাকে। খালা হিসেবে দিবা স্বভাবতই শিশুটিকে মায়ের স্নেহে বড় করে তুলতে পারবেন।
    ২. পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা: স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই পরিবারের মধ্যকার সম্পর্ক যাতে শিথিল না হয়ে যায়, বরং আরও সুদৃঢ় হয়, এ ধরনের বিবাহ তাতে বড় ভূমিকা রাখে।
    ৩. সামাজিক ও মানসিক স্থিতিশীলতা: দিবা ইতোমধ্যেই রফিকের পরিবারের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন, ফলে নতুন দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হবে।

    অতএব, মাতৃহীন শিশুটির ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক সংহতি রক্ষার স্বার্থে দিবার সাথে রফিকের এ বিবাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন