ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আফ্রিকার খনিজ সম্পদে ভরপুর একটি দেশ সুদান। এদেশের উত্তরাঞ্চলের আয়তন দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে অনেক বড় হলেও জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে নদী-নালা কম থাকার কারণে এখানকার ভূমি ছিল অনুর্বর এবং কোথাও কোথাও মধুময়। অন্যদিকে নদীবিধৌত দক্ষিণ সুদান ছিল উর্বর এবং খনিজ সম্পদগুলোও এ অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। রাষ্ট্রক্ষমতায় উত্তর সুদানের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় তারা দক্ষিণ সুদানকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করে উত্তরে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে এ অবস্থায় দক্ষিণ সুদান। সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় গণভোটের মাধ্যমে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা অর্জন করে।

  1. ক)

    পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণীয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সুদানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সাজবে তদনীন্তন পাকিস্তানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য নিরূপণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈষম্যের আলোকে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি চিত্র তুলে ধরো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা ছিল বাংলা (শতকরা ৫৬.৪০ ভাগ)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে ছাত্র-জনতা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শহীদ হয়েছিলেন। এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম হয়। এছাড়া এই দিনটি বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত, তাই একুশে ফেব্রুয়ারি চিরস্মরণীয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সুদানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের নিবিড় সাদৃশ্য রয়েছে।

    তৎকালীন পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের (পশ্চিম পাকিস্তান) আয়তন ছিল পূর্বাঞ্চলের (পূর্ব পাকিস্তান) চেয়ে অনেক বড় (শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ)। তবে সেখানে ভূপ্রকৃতি ছিল শুষ্ক, নদীহীন বা রুক্ষ এবং জনসংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) আয়তন ছোট হওয়া সত্ত্বেও এটি ছিল নদীবিধৌত, উর্বর এবং এখানে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৫৬%) মানুষ বাস করত।

    উদ্দীপকের সুদানের উত্তরাঞ্চলও পশ্চিম পাকিস্তানের মতো বড় কিন্তু অনুর্বর ও কম জনসংখ্যাবিশিষ্ট এবং দক্ষিণাঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানের মতো উর্বর ও নদীবিধৌত। সুতরাং এই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যে পাকিস্তানের সাথে সুদানের দারুণ সাদৃশ্য প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর সুদান কর্তৃক দক্ষিণ সুদানকে বঞ্চিত করার ঘটনার সাথে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে।

    তৎকালীন পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল পশ্চিম পাকিস্তান। ফলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে অর্জিত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। তৎকালীন সময়ে পাট ও চা রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসত পূর্ব পাকিস্তান থেকে, কিন্তু কেন্দ্রীয় বাজেটের সিংহভাগ (প্রায় ৭০-৮০%) বরাদ্দ পেত পশ্চিম পাকিস্তান।

    শিল্প-কারখানা স্থাপন, বড় বড় সেচ প্রকল্প, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সবই পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানকে শুধু কাঁচামালের যোগানদাতা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের উৎপাদিত পণ্যের একচেটিয়া বাজার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় পশ্চিমে থাকায় মূলধনও পাচার হয়ে যেত। উদ্দীপকের মতো পূর্ব পাকিস্তানকে এভাবেই বঞ্চিত করে পশ্চিম পাকিস্তান সম্পদের পাহাড়ে পরিণত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাঙালিদের স্বাধীনতার পথ বেছে নিতে বাধ্য করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন