ভূগোল ২য় পত্র • শিল্প • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
শিল্পায়ন কাকে বলে?
- খ)(2)
শিল্পে কাঁচামালের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত দেশের উল্লিখিত শিল্পের উৎপাদন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'খ' চিহ্নিত দেশের উল্লিখিত শিল্প গড়ে উঠার প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাপক মাত্রায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাথমিক ও প্রাকৃতিক সম্পদকে রূপান্তর করে বিপুল পরিমাণ ব্যবহারযোগ্য দ্রব্য উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে শিল্পায়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পকারখানায় কোনো পণ্য উৎপাদনের মূল ভিত্তি হলো কাঁচামাল। কাঁচামাল ছাড়া শিল্পের চাকা সচল রাখা সম্ভব নয়। শিল্প স্থাপনে কাঁচামালের সহজলভ্যতা, গুণগত মান এবং পরিবহন ব্যয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত না হলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিল্পের ধারাবাহিক উৎপাদন ও স্থায়িত্বের জন্য কাঁচামাল অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত দেশটি হলো জাপান এবং নির্দেশিত কাঁচামাল (আকরিক লোহা) দ্বারা পরিচালিত শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত শিল্প। জাপানের লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের উৎপাদন অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বিশ্বমানের।
জাপানে প্রয়োজনীয় নিজস্ব আকরিক লোহা ও কয়লার অভাব থাকলেও দেশটি অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত প্রভৃতি দেশ থেকে উচ্চমানের কাঁচামাল আমদানি করে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ইস্পাত উৎপাদন করে। জাপানের প্রধান প্রধান ইস্পাত উৎপাদন কেন্দ্রগুলো উপকূলবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে, যার মধ্যে টোকিও-ইয়োকোহামা অঞ্চল, ওসাকা-কোবে-কিয়োতো (হানশিন) অঞ্চল এবং উত্তর কিউশু অন্যতম। নিপ্পন স্টিল এবং জেএফই স্টিলের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক প্রযুক্তির ব্লাস্ট ফার্নেস ব্যবহার করে বিশেষায়িত ও অতি-উচ্চ মানের গাড়ি এবং জাহাজ নির্মাণের ইস্পাত উৎপাদন করে। বর্তমানে জাপান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'খ' চিহ্নিত দেশটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উল্লিখিত শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত শিল্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আকরিক লোহার প্রাচুর্য: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপিরিয়র হ্রদ অঞ্চল (বিশেষ করে মেসাবি রেঞ্জ) এবং অ্যালাবামার বার্মিংহাম অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের আকরিক লোহা পাওয়া যায়, যা এ শিল্পের মূল ভিত্তি।
২. জ্বালানি বা কয়লার প্রাপ্যতা: লোহা গলানোর জন্য প্রয়োজনীয় উৎকৃষ্ট মানের বিটুমিনাস ও অ্যানথ্রাসাইট কয়লা অ্যাপালাচিয়ান কয়লাখনি অঞ্চল ও পেনসিলভানিয়ায় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
৩. পানির সহজলভ্যতা: লৌহ ও ইস্পাত কারখানায় শীতলীকরণ ও অন্যান্য কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। পঞ্চহ্রদ (Great Lakes), ওহাইও, মিসিসিপি প্রভৃতি নদী থেকে প্রচুর সুপেয় পানির সরবরাহ পাওয়া যায়।
৪. চুনাপাথর ও ডলোমাইটের নৈকট্য: লোহা নিষ্কাশনে ফ্লাক্স হিসেবে ব্যবহৃত চুনাপাথর ও ডলোমাইট স্থানীয় ভূপ্রকৃতিতেই সহজলভ্য।
৫. অনুকূল জলবায়ু ও পরিবহন উপযোগী ভূপ্রকৃতি: নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অভ্যন্তরীণ হ্রদ ও নদীপথ স্বল্প ব্যয়ে ভারী কাঁচামাল পরিবহনে প্রাকৃতিক সুবিধা দেয়।
সুতরাং, কাঁচামালের প্রাচুর্য এবং অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশের সমন্বয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে গড়ে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও