ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি পাঁচ টাকার কয়েন গলিয়ে ২টি চা-চামচ তৈরি করে। তা দশ টাকায় বিক্রি করার ফলে হঠাৎ 'ক' দেশে ধাতব মুদ্রার অভাব দেখা দেয়। অভাব মোকাবিলায় সরকার উর্বর দক্ষিণ অঞ্চলের কর বৃদ্ধি করে। ওদিকে ব্যবসায়ীরা মুদ্রার অভাবে সিলযুক্ত কাগজের স্লিপ ব্যবহার করতে থাকে। কিন্তু অসাধু ব্যক্তিরা এসব স্লিপ জাল করে দেশের অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

  1. ক)

    কারাচিল কোথায় অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তরের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত উর্বর দক্ষিণ অঞ্চলের সাথে ভারতের কোন অঞ্চলের তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মুদ্রা ব্যবস্থার মতোই মুহাম্মদ বিন তুঘলকের "প্রতীক মুদ্রা" পরিকল্পনাটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কারাচিল বর্তমান ভারতের হিমাচল প্রদেশ বা উত্তরাখণ্ড অঞ্চলের হিমালয়ের পাদদেশে (কুমাউন অঞ্চলে) অবস্থিত ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে দিল্লি থেকে দেবগিরি বা দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। তৎকালীন সময়ে দক্ষিণ ভারতে ঘন ঘন বিদ্রোহ দেখা দিত এবং দিল্লি থেকে দূরবর্তী দক্ষিণাঞ্চল শাসন করা কঠিন ছিল। দৌলতাবাদ ভৌগোলিকভাবে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে মোঙ্গল আক্রমণ থেকে অধিক নিরাপদ হওয়ায় সুলতান সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উর্বর দক্ষিণ অঞ্চলের সাথে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলের অত্যন্ত উর্বর গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চলের তুলনা করা যায়।

    সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁর বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত উর্বর গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চলে ভূমি রাজস্ব বা কর বৃদ্ধি করেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, কর বৃদ্ধির সময়ই ওই অঞ্চলে মারাত্মক অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। রাজস্ব কর্মচারীদের কঠোরতার কারণে কৃষকরা কর দিতে ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে যায় এবং অনেকেই বিদ্রোহ করে।

    উদ্দীপকের 'ক' দেশের সরকারও ধাতব মুদ্রার অভাব ও সংকট মোকাবিলায় উর্বর দক্ষিণ অঞ্চলের কর বৃদ্ধি করে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চলের কর বৃদ্ধির পদক্ষেপের সাথে উদ্দীপকের এই সিদ্ধান্তের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত মুদ্রা জালিয়াতির কারণে সিলযুক্ত কাগজের স্লিপ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের মতোই সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের "প্রতীকী মুদ্রা" (টোকেন কারেন্সি) প্রবর্তন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল—উক্তিটি যথার্থ।

    সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁর বহুমুখী পরিকল্পনা ও রাজকোষের অপচয়ের ফলে সৃষ্টি হওয়া রৌপ্যের ঘাটতি পূরণে ১৩২৯-৩০ খ্রিষ্টাব্দে রৌপ্য মুদ্রার পরিবর্তে তামা ও ব্রোঞ্জের প্রতীকী মুদ্রা চালু করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে রৌপ্য ও স্বর্ণমুদ্রার মতোই এগুলোর সমমূল্য গণ্য হবে। কিন্তু সুলতান রাজকীয় টাকশালের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন এবং মুদ্রা তৈরির কোনো গোপন বা বিশেষ রাজকীয় চিহ্ন দেননি। ফলে ভারতীয় কামার ও স্বর্ণকাররা সহজেই ঘরে ঘরে জালনোটের মতো তামার নকল মুদ্রা তৈরি করতে শুরু করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' দেশে মুদ্রার অভাবে ব্যবসায়ীরা সিলযুক্ত কাগজের স্লিপ ব্যবহার শুরু করলে অসাধু ব্যক্তিরা তা জাল করে অর্থনীতির বারোটা বাজায়। একইভাবে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের আমলে জাল মুদ্রায় বাজার সয়লাব হয়ে যায়, জনগণ কর হিসেবে জাল তামার মুদ্রা জমা দিতে থাকে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত সুলতান বাধ্য হয়ে এ মুদ্রা প্রত্যাহার করে নেন এবং জনগণের তামার মুদ্রা ফেরত নিয়ে রাজকোষ থেকে খাঁটি সোনা-রুপা ফেরত দিতে গিয়ে রাজকোষ সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে পড়ে। সুতরাং, জালিয়াতি প্রতিরোধে ব্যর্থতাই মুহাম্মদ বিন তুঘলকের প্রতীক মুদ্রার ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল, যা উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন