পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১ : রহমান সাহেব ‘ক’ নামক একটি সংস্থার মালিক। সংস্থাটির বিভিন্ন নামে আরো ২২টি শাখা রয়েছে। প্রতিটি শাখা একজন করে ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। রহমান সাহেব প্রধান কার্যালয় থেকে শাখাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। ‘চ’ নামক শাখাটির অধীনে মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে শাখা ব্যবস্থাপক রহমান সাহেবের কাছে একটি স্কুল স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। রহমান সাহেব প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন।
দৃশ্যপট-২ : জামিল সাহেব ‘খ’ নামক অনুরূপ একটি সংস্থার মালিক। সংস্থাটিরও বিভিন্ন নামে অনেকগুলো শাখা রয়েছে। ‘ছ’ শাখার ব্যবস্থাপক তার অঞ্চলে শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির প্রস্তাব জামিল সাহেবের নিকট পাঠালে তিনি সেটি অনুমোদন করেন এবং সকল শাখাকে জানিয়ে দেন। ফলে সকল শাখা প্রধান সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
গণভোট কী?
- খ)(2)
জাতীয় সংসদকে কেন আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রহমান সাহেবের ‘ক’ সংস্থার কাজের অনুরূপ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ধরনের কাজের সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এর সাদৃশ্যপূর্ণ যে সরকার ব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও নেতৃত্ব বিকাশে তার গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত জানার জন্য যে ভোট গ্রহণ করা হয়, তাকে গণভোট (Referendum) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় সংসদ হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন তৈরি এবং সংশোধনের সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ, তাই একে আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বলা হয়। সংবিধান অনুযায়ী দেশে নতুন আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইনের সংশোধন কিংবা অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিলের ক্ষমতা এককভাবে আইনসভা বা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহমান সাহেবের ‘ক’ সংস্থার কাজের অনুরূপ পাঠ্যবইয়ের ‘এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা’ বা এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার সামঞ্জস্য রয়েছে।
যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের যাবতীয় ক্ষমতা একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্র থেকেই সারা দেশ পরিচালিত হয়, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলা হয়।
উদ্দীপকে রহমান সাহেব একটি প্রধান কার্যালয় থেকে তাঁর সংস্থার ২২টি শাখা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি ‘চ’ শাখার স্থানীয় জনগণের চাহিদামাফিক একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও রহমান সাহেব এককভাবে নাকচ করে দেন। এককেন্দ্রিক সরকারেও সব প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে পুঞ্জীভূত থাকে এবং স্থানীয় পর্যায়ের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। অতএব, এটি এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-২ এ কেন্দ্র ও শাখাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিচালিত ব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে, যার সাথে পাঠ্যবইয়ের 'যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার' বা 'স্থানীয় সরকার/বিকেন্দ্রীকরণ' ধারণার সাদৃশ্য রয়েছে।
স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও নেতৃত্ব বিকাশে এই ব্যবস্থার গুরুত্ব নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. স্থানীয় সমস্যার দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সমাধান: দৃশ্যপট-২ এ দেখা যায়, ‘ছ’ শাখার প্রস্তাব জামিল সাহেব অনুমোদন করেন এবং বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেন। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকলে স্থানীয় সমস্যাগুলো খুব সহজে চিহ্নিত হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
২. স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশ: আঞ্চলিক শাখা বা স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব প্রদান করা হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে পারে।
৩. জনসম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণ: এ ধরনের ব্যবস্থায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী নিজেদের প্রয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে, ফলে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রসার ঘটে।
৪. প্রশাসনিক গতিশীলতা: কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে সমন্বিতভাবে সংকট সমাধানের সুযোগ থাকায় প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটে এবং উন্নয়নমূলক কাজ ত্বরান্বিত হয়।সুতরাং, স্থানীয় পর্যায়ের স্বাধিকার ও সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা স্থানীয় সমস্যা সমাধান এবং কার্যকর নেতৃত্ব বিকাশে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও