হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
প্রণয় বাবু তার বাড়িতে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা অর্চনা করেন। এর মাধ্যমে তিনি তার মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু তার প্রতিবেশী সুবল বাবু কোনো পূজা অর্চনা করেন না। তিনি মন্দিরে দেব-দেবীর দর্শনেও যান না। তিনি প্রত্যহ উষাকালে ও সন্ধ্যায় নীরবে বসে একমনে নিষ্কামভাবে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন।
- ক)(1)
ব্রহ্ম শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
পরমাত্মা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
প্রণয় বাবু ঈশ্বরের কোন রূপের উপাসনা করেন? পাঠ্যের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুবল বাবুর অনুসরণকৃত পদ্ধতির মাধ্যমে কি মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ব্রহ্ম শব্দের অর্থ বৃহৎ বা মহান। যিনি সবার চেয়ে বড় এবং সর্বব্যাপী, তিনিই ব্রহ্ম।
- খ)
যোগীদের কাছে ঈশ্বর যে রূপে পরিচিত, তিনি পরমাত্মা। উপনিষদে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টাকে ব্রহ্ম এবং কখনও কখনও পরমাত্মা বলা হয়েছে। এই পরমাত্মা থেকেই সমস্ত জীবজগৎ ও জড়জগতের সৃষ্টি। তিনি জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে জীবাত্মা বলা হয়।
- গ)
প্রণয় বাবু ঈশ্বরের সাকার উপাসনা বা প্রতীক উপাসনা করেন। তিনি বাড়িতে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করে মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করেন।
পাঠ্যবই অনুযায়ী উপাসনা দুই ধরনের, সাকার ও নিরাকার। প্রতীক শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার। সাকার উপাসনা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি দেব-দেবীর প্রতিমাকে উদ্দেশ্য করে করা হয়। একে সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ বলে। সগুণরূপে ঈশ্বর সাকাররূপে প্রতিকৃতিতে প্রকাশিত থাকেন। দেব-দেবী ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তি ধারণ করেন। পূজায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁরা পূজারির অভীষ্ট পূরণ করেন।
উদ্দীপকে প্রণয় বাবু বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা করেন এবং এর মাধ্যমে মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এটি সাকার উপাসনার বৈশিষ্ট্য। তিনি ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশরূপে দেব-দেবীর আরাধনা করেন।
অতএব প্রণয় বাবু সাকার বা সগুণ রূপের উপাসক।
- ঘ)
সুবল বাবু প্রতিদিন উষা ও সন্ধ্যায় নীরবে বসে একমনে নিষ্কামভাবে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন। এটি নিরাকার উপাসনা বা ধ্যানসাধনা। আমার মতে এই পদ্ধতির মাধ্যমে মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব।
পাঠ্যবই অনুযায়ী মোক্ষ অর্থ চিরমুক্তি। জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হলে আর পুনর্জন্ম হয় না, একেই মোক্ষ বলে। উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভ ও শেষে মোক্ষলাভ। কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তি, এই তিন পথের যেকোনো একটি নিষ্ঠার সঙ্গে অনুশীলন করলে সাধক মোক্ষ লাভ করতে পারেন।
১. নিরাকার উপাসনা জ্ঞানযোগের অংশ : ধ্যান সাধনার মাধ্যমে প্রতিকৃতিহীন ঈশ্বরকে উপলব্ধি করে নিরাকার উপাসনা করা হয়। জ্ঞানযোগ মোক্ষলাভের স্বীকৃত পথ। সুবল বাবুর উপাসনা এই পথেরই অনুসরণ।
২. ধ্যান ও সমাধি : ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। ধ্যানের উচ্চ শিখরে সাধক সমাধি লাভ করেন। তখন পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মিলন ঘটে। সুবল বাবুর একমনে ঈশ্বরচিন্তা এই ধ্যানের অনুশীলন।
৩. নিষ্কাম ভাব : সুবল বাবু নিষ্কামভাবে ঈশ্বরকে স্মরণ করেন। উপাসনা মনের কামনা, বাসনা, অহমিকা ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মনকে শুদ্ধ করে। এই শুদ্ধ মনই মোক্ষলাভের উপযুক্ত।
৪. তুলনা : প্রণয় বাবু ভক্তিযোগের মাধ্যমে নিজের কামনা পূরণ করতে চান। আর সুবল বাবু কামনাহীন সাধনার পথে এগোন। তাই মোক্ষের জন্য সুবল বাবুর পথ বেশি উপযোগী। তবে ভক্তি বা কর্মের পথেও মোক্ষ সম্ভব।
সুতরাং সুবল বাবুর অনুসৃত নিরাকার উপাসনার পদ্ধতিতে মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও