জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্ভিদ কর্তৃক শোষিত পানির বেশির ভাগই পাতায় অবস্থিত বিশেষ ক্ষুদ্রাঙ্গ দিয়ে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।

  1. ক)

    নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ কী?

    (1)
  2. খ)

    অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্পিখিত ক্ষুদ্রাঙ্গটির গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উক্ত অঙ্গটির ভূমিকারয়েছে- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে প্রক্রিয়ায় কোনো বিপাকীয় শক্তি প্রত্যক্ষ প্রয়োগ ছাড়াই ব্যাপন বা প্রস্বেদন টানের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূলরোম দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি ও খনিজ লবণ শোষিত হয়, তাকে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সবাত শ্বসনের ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনে (ETC) ইলেকট্রন স্থানান্তরের সময় বিমুক্ত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ADP-এর সাথে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP সংশ্লেষিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলে। এ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জারণের মাধ্যমে শক্তি নির্গত হয় যা এটিপি সিন্থেস এনজাইমের সহায়তায় ATP হিসেবে জমা থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্রাঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র (Stoma)।

    পত্ররন্ধ্রের গঠন নিম্নরূপ:
    ১. রক্ষীকোষ (Guard Cells): প্রতিটি পত্ররন্ধ্র দুটি অর্ধচন্দ্রাকার বা বৃক্কাকার (ঘাসজাতীয় উদ্ভিদে ডাম্বেল আকৃতির) বিশেষায়িত কোষ দ্বারা গঠিত, যাদের রক্ষীকোষ বলে। রক্ষীকোষের ভেতরের প্রাচীর পুরু ও অপ্রসার্য এবং বাইরের প্রাচীর পাতলা ও প্রসার্য। এতে সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ও অসংখ্য ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
    ২. রন্ধ্র বা ছিদ্র (Stomatal Pore): দুটি রক্ষীকোষের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম ছিদ্রটিকে স্টোমা বা রন্ধ্র বলে।
    ৩. সহকারী কোষ বা সাবসিডিয়ারি কোষ (Subsidiary Cells): রক্ষীকোষকে ঘিরে সংলগ্ন সাধারণ ত্বকীয় কোষের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তিত কিছু কোষ থাকে, এদের সহকারী কোষ বলে।
    ৪. উপ-পত্ররন্ধ্রীয় বায়ুকুঠুরি (Sub-stomatal Cavity): রন্ধ্রের ভেতরের দিকে মেসোফিল টিস্যুর মাঝে একটি বায়ুপূর্ণ প্রকোষ্ঠ থাকে, যাকে সাব-স্টোমেটাল প্রকোষ্ঠ বা শ্বসন কুঠুরি বলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র। উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

    ১. প্রস্বেদন (Transpiration): উদ্ভিদ কর্তৃক শোষিত অতিরিক্ত পানির প্রায় ৯০-৯৫% পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। এর ফলে কোষে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে, প্রস্বেদন টানের মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণ ঊর্ধ্বে পরিবাহিত হয় এবং পাতা শীতল থাকে।
    ২. সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় CO2 পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত থাকার মাধ্যমেই বায়ুমণ্ডল থেকে পাতায় প্রবেশ করে। আবার সালোকসংশ্লেষণের উপজাত হিসেবে উৎপন্ন O2 পত্ররন্ধ্র দিয়েই পরিবেশে নির্গত হয়।
    ৩. শ্বসন (Respiration): উদ্ভিদের প্রতিটি সজীব কোষের শ্বসন ক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে গৃহীত হয় এবং শ্বসনে উৎপন্ন বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।
    ৪. গ্যাসীয় বিনিময় ও অভিস্রবণিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: রক্ষীকোষের স্ফীতি ও সংকোচন পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ অভিস্রবণিক চাপ ও রসস্ফীতি বজায় রাখে।

    অতএব, উদ্ভিদের প্রস্বেদন, সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের মতো অত্যাবশ্যকীয় শারীরবৃত্তীয় ও জৈব-রাসায়নিক কার্যক্রমে পত্ররন্ধ্র অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন