ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি ছোট রাজ্যের রাজার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ফাহমিদ সিংহাসনে বসেন। ফাহমিদ অল্প বয়সী ও অনভিজ্ঞ হওয়ার কারণে নিকটাত্মীয় ও আমির-ওমরাহদের ষড়যন্ত্রে পিতার রাজ্য থেকে বিতাড়িত হন। ফাহমিদ বিচলিত না হয়ে নতুন উদ্যমে আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করে। ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য একটি নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

  1. ক)

    সর্বশেষ মুঘল সম্রাটের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'মনসবদারি প্রথা' কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ফাহমিদের সাথে তোমার পঠিত কোন মুঘল শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ভারতে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠায় উক্ত শাসকের অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সর্বশেষ মুঘল সম্রাটের নাম দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ্ (বা বাহাদুর শাহ্ জাফর)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মনসব' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা পদবী। আর মনসবদারি প্রথা হলো মুঘল সম্রাট আকবর কর্তৃক সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে প্রবর্তিত একটি পদমর্যাদা ভিত্তিক পদায়ন ব্যবস্থা। এ প্রথা অনুযায়ী সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী বেতন, ভাতা এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সৈন্য ও অশ্বারোহী সংরক্ষণের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হতো। সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ পর্যন্ত বিভিন্ন মনসব বা স্তরে কর্মকর্তাদের বিন্যস্ত করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফাহমিদের সাথে আমার পঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল রয়েছে।

    পিতা ওমর শেখ মির্জার মৃত্যুর পর বাবর মাত্র এগারো বছর বয়সে মধ্য এশিয়ার ফারগানার সিংহাসনে আরোহণ করেন। অল্প বয়স ও অনভিজ্ঞতার কারণে তিনি আত্মীয়স্বজন এবং অন্যান্য উচ্চাভিলাষী আমিরদের গভীর ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতার মুখে পড়েন। ফলে তিনি ফারগানার সিংহাসন হারান এবং যাযাবরের ন্যায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিচলিত হননি; বরং অদম্য সাহস ও মনোবল নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় গ্রহণ করেন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, রাজা পিতার মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফাহমিদ অল্প বয়সে সিংহাসনে বসলেও আমির-ওমরাহ ও নিকটাত্মীয়দের ষড়যন্ত্রে বিতাড়িত হন। কিন্তু ফাহমিদ বিচলিত না হয়ে নতুন উদ্যমে আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মাধ্যমে নতুন সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। বাবরের জীবনের এই উত্থান-পতন ও সংগ্রামের সাথে উদ্দীপকের ফাহমিদের জীবনকাহিনীর সরাসরি মিল বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সম্রাট বাবরের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।

    পৈতৃক রাজ্য ফারগানা এবং পরবর্তীতে সমরকন্দ হারিয়ে বাবর দীর্ঘ সময় প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করেন। ১৫MD৪ সালে তিনি কাবুল অধিকার করে নিজের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। এরপর তিনি ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ভারতবর্ষের দিকে মনোযোগ দেন। ১৫২৬ সালে ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও নিহত করে তিনি ভারতে মুঘল শাসনের সূচনা করেন। এ যুদ্ধে তিনি বিখ্যাত 'রুমি কৌশল' ও কামানের কার্যকর ব্যবহার করে সামরিক রণকৌশলের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।

    দিল্লি ও আগ্রা দখলের মধ্য দিয়েই বাবরের কাজ শেষ হয়নি। ভারতের বুকে মুঘল শাসনকে স্থায়িত্ব দিতে তিনি ১৫২৭ সালে খানুয়ার যুদ্ধে রানা সংগ্রাম সিংহের নেতৃত্বাধীন রাজপুতদের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন। এরপর ১৫২৮ সালে চান্দেরীর মেদিনী রায়কে এবং ১৫২৯ সালে ঘাগরা নদীর তীরে আফগান শক্তিকে চূড়ান্তভাবে পর্যুদস্ত করেন। একের পর এক বিজয়ের মাধ্যমে তিনি সিন্ধু থেকে বিহার এবং হিমালয় থেকে গোয়ালিয়র পর্যন্ত এক বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, বাবর যদি তার অদম্য সাহস, সামরিক প্রতিভা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রদর্শন না করতেন, তবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। তাই ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় বাবরের অবদান অবিস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন