‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

হাবিব যে বিষয় সম্পর্কে তার নোট খাতায় লিখল, তা মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করে, সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে এবং তা দেশ ও জাতিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, দেশের আইন ও নৈতিকতাও এর আলোকে গড়ে ওঠে।

  1. ক)

    পৌরনীতি মূলত কী বিষয়ক বিজ্ঞান?

    (1)
  2. খ)

    মানুষ আইন মান্য করে কেন?

    (2)
  3. গ)

    হাবিব যে বিষয় সম্পর্কে তার নোট খাতায় লিখেছে, তার শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বিষয়টি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কতটুকু সহায়ক? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পৌরনীতি মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ প্রধানত সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং শাস্তির ভয়ে আইন মান্য করে। এ ছাড়া সহজাত সামাজিক প্রবৃত্তি, নৈতিকতাবোধ এবং আইনকে নিজের ও সমষ্টির সার্বিক কল্যাণের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করার কারণেও মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে হাবিব যে বিষয়টি সম্পর্কে নোট খাতায় লিখেছে, তা হলো 'মূল্যবোধ' (Values)।

    মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণ পরিচালনাকারী সেসব নীতি ও আদর্শ, যা ভালো-মন্দ বিচার করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা আনে। মূল্যবোধকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
    ১. সামাজিক মূল্যবোধ: সততা, শিষ্টাচার, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতি ইত্যাদি সামাজিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
    ২. নৈতিক মূল্যবোধ: ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের নিজস্ব বিচারবোধ থেকে নৈতিক মূল্যবোধের উদ্ভব ঘটে।
    ৩. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
    ৪. রাজনৈতিক মূল্যবোধ: রাজনৈতিক সচেতনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা।
    ৫. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ: কর্মনিষ্ঠা, সম্পদের অপচয় রোধ ও ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান ইত্যাদি।
    ৬. সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ: স্ব-স্ব সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় অনুশাসন ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো মূল্যবোধ, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত কার্যকর ও অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

    সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্তগুলো হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা। শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ করে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যদি না নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ জাগ্রত থাকে।

    প্রথমত, মূল্যবোধ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ ও দায়িত্বশীল হতে শেখায়। শাসক ও প্রশাসকদের মধ্যে নৈতিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়, যা সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করে।

    দ্বিতীয়ত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা তৈরি করে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সামাজিক মূল্যবোধ আইনের সঠিক প্রয়োগে সহায়ক হয়।

    অতএব, মূল্যবোধ জনগণের নাগরিক সচেতনতা বাড়িয়ে এবং শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে দায়বদ্ধতা তৈরি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরাসরি এবং অন্যতম প্রধান সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন