পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ইংল্যান্ডের রাজা উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে ভারত স্বাধীন হয়েছে মহাস্না গান্ধীর জাদুকরী নেতৃত্বে। ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ভিন্ন ব্যক্তি। কিন্তু তারা কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে এই পদ পাননি, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
- ক)(1)
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাশ হয়?
- খ)(2)
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন কোন ধরনের নেতৃত্বের কথা বলা হয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতৃত্বের ধরনগুলোর মধ্যে কোনটিকে তুমি উত্তম মনে 'কর? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সালে পাস হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন একটি স্বার্থান্বেষী জনসমষ্টি বা দল, যারা সরাসরি ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করে না, কিন্তু নিজেদের দলীয় বা পেশাগত স্বার্থ আদায়ের জন্য সরকারের নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বা চাপ বিস্তার করে। যেমন—বণিক সমিতি, শিক্ষক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন ইত্যাদি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রধানত তিন ধরনের নেতৃত্বের কথা বলা হয়েছে: ঐতিহ্যগত বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং সম্মোহনী বা জাদুকরী নেতৃত্ব।
১. ঐতিহ্যগত নেতৃত্ব: ইংল্যান্ডের রাজা বংশানুক্রমিক বা উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রপ্রধান হন। প্রথা বা বংশমর্যাদার ভিত্তিতে যে নেতৃত্বের উদ্ভব হয়, তাকে ঐতিহ্যগত নেতৃত্ব বলে।
২. গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব: ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। জনগণের সম্মতি ও আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বই হলো গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব।
৩. সম্মোহনী বা জাদুকরী নেতৃত্ব: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মা গান্ধীর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও আকর্ষণীয় ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। কোনো নেতার ব্যক্তিগত গুণাবলি ও জাদুকরী ব্যক্তিত্ব যখন সাধারণ মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করে, তখন তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলে।সুতরাং উদ্দীপকে উপর্যুক্ত তিন ধরনের নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতৃত্বের ধরনগুলোর মধ্যে 'গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব'-কে আমি সর্বোত্তম মনে করি। নিম্নে এর স্বপক্ষে যুক্তি প্রদান করা হলো:
১. জনগণের সম্মতি ও অংশগ্রহণ: গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়। ফলে এই নেতৃত্ব সর্বদাই জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।
২. স্বৈরতন্ত্রের অনুপস্থিতি: ঐতিহ্যগত নেতৃত্ব বংশানুক্রমিক হওয়ায় অযোগ্য ব্যক্তিও নেতা বনে যেতে পারেন এবং সম্মোহনী নেতৃত্ব অনেক সময় ব্যক্তিত্বপূজার দিকে ধাবিত হয়ে একনায়কতন্ত্রের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে ক্ষমতার ভারসাম্য ও আইনের শাসন নিশ্চিত থাকে।
৩. নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তন: গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর সম্ভব হয়, যা একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।উদ্দীপকে ভারত ও ইংল্যান্ডের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নেতাদের মতো নেতৃত্বই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সর্বজনগ্রাহ্য। এটি ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করে।
অতএব, জনগণের অংশীদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও সার্বিক কল্যাণের দিক বিবেচনা করে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সর্বোত্তম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও