‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

রহিম আহমেদ একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার একজন শিক্ষার্থী। সে তার বন্ধুর সাথে আলাপচারিতায় দুটি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করল- প্রথম প্রসঙ্গ: সমাজবদ্ধ মানুষের রাজনৈতিক জীবনের নানাদিক আলোচনা করাই এর কাজ। এর আলোচনা নাগরিক, নগররাষ্ট্র তথা আধুনিক রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আইন ও শাসনব্যবস্থা এর অন্যতম আলোচ্য বিষয়। দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: আইনের শাসন এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সরকারের গৃহীত নীতির বৈধতা এটি প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক। এটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত পুরুত্বপূর্ণ।

  1. ক)

    কোন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের ধারণা প্রবর্তন করে?

    (1)
  2. খ)

    সাম্য প্রতিষ্ঠা কেন প্রয়োজন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম প্রসঙ্গে যে বিষয়ের প্রতি ঈঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে তা অধ্যয়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দ্বিতীয় প্রসঙ্গে যে বিষয়ের বৈশিষ্ট্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে উদ্দীপকে কি তার সকল বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বব্যাংক (World Bank) ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসনের ধারণা প্রবর্তন করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য সাম্য প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

    সাম্য বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং সুযোগের অসমতা দূরীকরণকে বোঝায়। সাম্য প্রতিষ্ঠিত না থাকলে সমাজে শোষণ, বৈষম্য এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সাম্যের পরিবেশেই মানুষ তার পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশ ঘটাতে পারে এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ রূপ দিতে পারে। তাই একটি শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সাম্য প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম প্রসঙ্গে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। নিচে এর অধ্যয়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো:

    পৌরনীতি হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। উদ্দীপকে সমাজবদ্ধ মানুষের রাজনৈতিক জীবন, নাগরিক, নগররাষ্ট্র ও আধুনিক রাষ্ট্র এবং আইন ও শাসনব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে—যা পৌরনীতি ও সুশাসনের মূল পাঠ্যসূচি।

    পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের গুরুত্ব:
    ১. নাগরিক চেতনা ও অধিকার-কর্তব্যবোধ জাগ্রত করা: এটি পাঠ করলে নাগরিকরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ হয়।
    ২. গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ: গণতন্ত্রের সফলতার জন্য যোগ্য, সৎ ও সচেতন নাগরিক আবশ্যক, যা পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
    ৩. রাষ্ট্র ও সরকারের গঠন সম্পর্কে জ্ঞান: রাষ্ট্রের উৎপত্তি, সংবিধান, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও এদের কার্যাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়।
    ৪. জাতীয়তাবোধ ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি: এটি স্থানীয় ও জাতীয় ইতিহাস জানার পাশাপাশি বিশ্ব নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করে।

    অতএব, একটি রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় প্রসঙ্গে নির্দেশিত বিষয়টির নাম হলো 'সুশাসন' (Good Governance)। আমি মনে করি, উদ্দীপকে সুশাসনের সব বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেনি, বরং এর কয়েকটি প্রাথমিক বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    উদ্দীপকে সুশাসনের যে বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে:
    ১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা,
    ২. সরকারি নীতির বৈধতা এবং
    ৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভূমিকা।
    এগুলো সুশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও সুশাসনের ধারণাটি আরও ব্যাপক ও বহুমুখী।

    যেসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকে অনুচ্চারিত রয়েছে:
    ১. অংশগ্রহণ (Participation): সুশাসনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সর্বস্তরের জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সক্রিয় অংশগ্রহণ।
    ২. স্বচ্ছতা (Transparency): প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং অবাধ তথ্যের প্রবাহ থাকা আবশ্যক।
    ৩. জবাবদিহিতা (Accountability): সরকার, সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হতে হয়।
    ৪. সংবেদনশীলতা ও কার্যকারিতা (Responsiveness and Effectiveness): নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনগণের সেবা প্রদান এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো সুশাসনের অপরিহার্য অঙ্গ।
    ৫. ঐক্যমতভিত্তিক সিদ্ধান্ত (Consensus Orientation): সমাজের বিভিন্ন স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় করে বৃহত্তর সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলা।

    সুতরাং, পরিশেষে বলা যায় যে উদ্দীপকে কেবল আইনের শাসন, বৈধতা ও বিচারিক ভূমিকার মতো কিছু মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক দিক তুলে ধরা হলেও সার্বিক সুশাসনের সকল বৈশিষ্ট্য সেখানে ফুটে ওঠেনি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন