অর্থনীতি • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি প্রশ্ন
জহির ও তার স্ত্রী নুসাইবা.ইটভাটায় দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। প্রতিদিন কাজ শেষে মজুরি নিতে গেলে নারী শ্রমিক অজুহাতে জহিরের চেয়ে নুসাইবাকে কম বেতন দেওয়া হয়। এতে তিনি নিত্যই মনে খুব দুঃখ পান। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি সংস্থার সহয়োগিতায় নারী বলে যে অবহেলার শিকার হয়েছেন সে সম্পর্কে অবগত হয়ে তার অধিকার ও ন্যায্য পাওনা আদায়ে সক্ষম হন।
- ক)(1)
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাকে বলে?
- খ)(2)
"অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি বহুমাত্রিক ধারণা"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
নুসাইবাকে সাহায্যকারী সংস্থার কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জহির দম্পতির মতো জনশস্তিকে কীভাবে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করা যায়? অর্থনীতির ধারণার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো দেশে নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত এক বছরে, প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বা মাথাপিছু প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পাওয়াকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলে।
- খ)
অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে শুধু উৎপাদন বা আয় বৃদ্ধি বোঝায় না। এর সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গড় আয়ু, দারিদ্র্য হ্রাস, আয়ের সুষম বন্টন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন ও জীবনযাত্রার মানের উন্নতিও জড়িত। অর্থাৎ অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন দিক মিলিয়ে উন্নয়ন ঘটে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বহুমাত্রিক ধারণা বলা হয়।
- গ)
নুসাইবাকে সাহায্যকারী সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা (NGO)। তাদের কার্যক্রম:
১. সচেতনতা সৃষ্টি: নারীদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরির বিষয়ে সচেতন করা, যেমন নুসাইবাকে তার অবহেলার বিষয়ে অবগত করা।
২. আইনি সহায়তা: অধিকার আদায়ে পরামর্শ ও আইনি সহায়তা দেওয়া।
৩. ক্ষমতায়ন: প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীকে আত্মনির্ভরশীল করা।
৪. লিঙ্গবৈষম্য হ্রাস: নারী-পুরুষের সমান মজুরি ও মর্যাদার পক্ষে কাজ করা।এ কার্যক্রমের ফলে নুসাইবা তার ন্যায্য পাওনা আদায় করতে পেরেছেন।
- ঘ)
জহির দম্পতির মতো অদক্ষ জনশক্তিকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করা যায়। মানবসম্পদ উন্নয়নের ধারণা অনুযায়ী এর উপায়গুলো নিম্নরূপ:
১. শিক্ষা: সাক্ষরতা ও কারিগরি শিক্ষা বাড়ালে তারা দক্ষতা অর্জন করে উচ্চ মজুরির কাজ পেতে পারে।
২. প্রশিক্ষণ: সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, যেমন কম্পিউটার, সেলাই বা যন্ত্র পরিচালনা, তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ায়।
৩. স্বাস্থ্য ও পুষ্টি: সুস্থ মানুষ বেশি কর্মক্ষম হয়, তাই স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টির নিশ্চয়তা জরুরি।
৪. সমান সুযোগ: নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করলে কর্মস্পৃহা বাড়ে।সুতরাং, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে জহির দম্পতির মতো জনশক্তি দক্ষ জনসম্পদে পরিণত হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও