যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
একদিন সকালবেলা অমিত পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখলো যে, পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। অমিতের দাদা বললো, মানুষের বদ নজর পড়েছে। তাই মাছগুলো মরে গেছে। কিন্তু অমিত পুকুর পাড় ঘুরে একটি বিষের বোতল ও মানুষের পায়ের ছাপ দেখতে পেল। তাই অমিত ভাবলো কেউ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলোকে মেরে ফেলেছে।
- ক)(1)
প্রকল্প কী?
- খ)(2)
প্রকল্প বাস্তবভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে অমিতের দাদার বক্তব্যে প্রকল্পের কোন শর্তকে লঙ্ঘন করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত অমিত এবং অমিতের দাদার দৃষ্টিভঙ্গি পাঠ্যবইয়ের আলোকে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ঘটনা বা বিষয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য প্রাথমিক বা আনুমানিক যে ধারণা গঠন করা হয়, তাকে যুক্তিবিদ্যায় প্রকল্প (Hypothesis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকল্পকে বৈধ বা অর্থপূর্ণ হতে হলে বাস্তবভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। কারণ কাল্পনিক, অলীক বা অবাস্তব বিষয়ের ওপর কোনো বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো সম্ভব নয়। বাস্তব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হলেই কেবল তা পরীক্ষণ বা নিরীক্ষণের মাধ্যমে যাচাই ও প্রমাণ করা সম্ভব হয়। অন্যথায় সেই প্রকল্প মিথ্যা বা ভিত্তিহীন হিসেবে বাতিল হয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অমিতের দাদার বক্তব্য প্রকল্পের 'যাচাইযোগ্যতা' বা 'বাস্তব কারণনির্ভরতা' (বাস্তব কারণ বা Vera Causa)-এর শর্তকে লঙ্ঘন করেছে।
যুক্তিবিদ্যা অনুযায়ী, একটি বৈধ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রকল্পটিকে কোনো বাস্তব কারণনির্ভর বা অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং যাচাইযোগ্য হতে হবে। অলীক, ভিত্তিহীন বা অদৃশ্য কোনো শক্তির অনুমান কখনো বৈধ প্রকল্প হতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠলে অমিতের দাদা ধারণা করেন 'মানুষের বদ নজর পড়েছে'। 'বদ নজর' এমন একটি বিষয় যার কোনো বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এটি নিরীক্ষণ বা পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ বা যাচাই করা অসম্ভব। অমিতের দাদার এই অনুমানটি কুসংস্কারপ্রসূত ও অলীক হওয়ার কারণে এটি একটি বৈধ প্রকল্পের শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং এটি একটি অবৈধ বা ভিত্তিহীন প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অমিত এবং তার দাদার দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে যথাক্রমে 'বৈধ প্রকল্প' ও 'অবৈধ প্রকল্প' হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. বাস্তব ভিত্তি ও যৌক্তিকতা: অমিতের দাদার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণরূপে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ভিত্তিহীন। মাছ মরার কারণ হিসেবে 'বদ নজর'-এর ধারণা অবৈজ্ঞানিক ও যাচাইয়ের অযোগ্য, যা যুক্তিবিদ্যায় অবৈধ প্রকল্পের উদাহরণ। অন্যদিকে, অমিত পুকুর পাড়ে বিষের বোতল ও পায়ের ছাপের মতো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা বাস্তব আলামত দেখে ধারণা করেছে কেউ বিষ প্রয়োগ করেছে। এটি সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।
২. যাচাইযোগ্যতা ও প্রমাণ: অমিতের অনুমানটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে যাচাইযোগ্য। মৃত মাছের নমুনা বা পুকুরের পানি পরীক্ষা করে বিষের উপস্থিতি প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু অমিতের দাদার 'বদ নজর'-এর অনুমানকে কোনো ইন্দ্রিয়ানুভূতির সাহায্যে বা গবেষণাগারে প্রমাণ বা অপ্রমাণ করা সম্ভব নয়।
৩. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান: কোনো ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের জন্য অমিতের গৃহীত পদক্ষেপই অনুসন্ধানের সঠিক পথ নির্দেশ করে, যা একটি বৈধ প্রকল্পের আবশ্যকীয় শর্ত। অপরদিকে অমিতের দাদার দৃষ্টিভঙ্গি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পরিপন্থী ও যুক্তিহীন অন্ধবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, অমিতের দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুযায়ী একটি কার্যকর ও বৈধ প্রকল্পকে নির্দেশ করে, আর তার দাদার দৃষ্টিভঙ্গি একটি অবান্তর ও অবৈধ প্রকল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও