সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা-১: সুমন টিকিট না কেটে ট্রেন ভ্রমণে বের হয়েছে। টিটি টিকেট চেক করতে আসলে সুমন টিকিট দেখাতে ব্যর্থ হয়।
ঘটনা-২: রাজন একজন ব্যবসায়ী। তিনি আয়কর ফাঁকি দেন। তাছাড়া তিনি ট্রেডমার্ক নকল ও জালিয়াতি করার কাজের সাথে যুক্ত।
- ক)(1)
বিবর্তন কী?
- খ)(2)
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ঘটনা-১ বিচ্যুতি না অপরাধ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"ঘটনা-২ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে অন্তরায়"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিবর্তন হলো একটি ধীর, অবিরাম ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো বিষয় বা সমাজ সরল অবস্থা থেকে জটিল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বলতে এমন কিছু কৌশল বা পদ্ধতিকে বোঝায়, যার মাধ্যমে সমাজ তার সদস্যদের আচরণকে পরিচালিত, শৃঙ্খলিত এবং সমাজস্বীকৃত নিয়মনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে পরিবার, রাষ্ট্র, ধর্ম, প্রথা এবং আইন ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যক্তির অবাধ্যতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সংহতি বজায় রাখা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ সুমনের টিকিট না কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা এবং চেকিংয়ের সময় টিকিট দেখাতে ব্যর্থ হওয়া একটি 'অপরাধ'।
সমাজবিজ্ঞান ও আইনের দৃষ্টিতে, কোনো ব্যক্তি যখন সমাজের প্রচলিত লিখিত ও আনুষ্ঠানিক আইন লঙ্ঘন করে এবং যার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক শাস্তির বিধান থাকে, তখন তাকে অপরাধ বলে। অন্যদিকে, বিচ্যুতি হলো সমাজের অলিখিত প্রথা বা মূল্যবোধ ভঙ্গ করা, যার জন্য সরাসরি আইনি শাস্তি নেই। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী টিকিট ব্যতীত ভ্রমণ করা একটি বিধিবদ্ধ আইন লঙ্ঘনজনিত কাজ এবং এর জন্য জরিমানা বা আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে।
উদ্দীপকে সুমন টিকিট না কেটেই ট্রেনে উঠেছে, যা রেলওয়ে আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য কাজ। টিকিট চেকার (টিটি) কর্তৃক তা ধরা পড়ায় সুমনের ওপর আর্থিক দণ্ড বা আইনি পদক্ষেপ কার্যকর হয়। সুতরাং, ঘটনা-১ কেবল সামাজিক বিচ্যুতি নয়, এটি একটি স্পষ্ট রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন তথা অপরাধ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ রাজনের আয়কর ফাঁকি দেওয়া, ট্রেডমার্ক নকল ও জালিয়াতি করার মতো কর্মকাণ্ডগুলো 'শ্বেতভদ্রবেশী অপরাধ' (White-collar crime)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে একটি বড় অন্তরায়—উক্তিটি যথার্থ।
উচ্চ পেশাগত বা সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য যখন পেশাগত দায়িত্বের আড়ালে আইনের চোখে ধুলো দিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন, সমাজবিজ্ঞানী সাদারল্যান্ডের মতে তাকে শ্বেতভদ্রবেশী অপরাধ বলা হয়। কর ফাঁকি, ট্রেডমার্ক নকল ও পণ্য জালিয়াতি এই শ্রেণির অন্যতম অপরাধ।
উদ্দীপকে রাজন একজন ব্যবসায়ী হয়েও কর ফাঁকি দিচ্ছেন এবং নকল ও জালিয়াতি কাজে যুক্ত রয়েছেন। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা জাতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করে। অন্যদিকে, ট্রেডমার্ক নকলের ফলে আসল উদ্যোক্তা ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, যার ফলে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। এটি দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে সামাজিক অসমতা ও দুর্নীতি বাড়িয়ে দেয়।
অতএব, স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, রাজনের মতো অসাধু ব্যক্তিদের সংঘটিত শ্বেতভদ্রবেশী অপরাধ রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতি, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক অবক্ষয় ডেকে এনে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে চরম অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও