সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় শুভর জন্ম এবং সেখানেই বেড়ে ওঠা। শুভর বয়স পাঁচ বছর। বাবা-মায়ের সাথে সে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে এবং বিকেলে রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে যায়। এ সময় শুভ তার বাবার কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাবা তাকে বলে, বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও প্রথা। আর এগুলোর সমন্বয়ে গড়ে উঠে আমাদের জীবনযাত্রা প্রণালি।
- ক)(1)
দল কী?
- খ)(2)
"পরিবার সর্বজনীন"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন প্রত্যয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রত্যয়ের সাথে সভ্যতার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য একত্রিত হয় এবং নিজেদের মধ্যে সচেতন সম্পর্ক গড়ে তোলে, তখন তাকে সামাজিক দল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"পরিবার সর্বজনীন" বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল মানবসমাজে, সর্বকালে এবং সকল ভৌগোলিক অঞ্চলে পরিবারের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে।
মানব ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই পরিবারহীন কোনো সমাজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আদিম শিকার-সংগ্রহকারী সমাজ থেকে শুরু করে আধুনিক শিল্পায়িত সমাজ পর্যন্ত প্রতিটি সমাজেই জৈবিক চাহিদা পূরণ, বংশবৃদ্ধি, সন্তানদের সামাজিকীকরণ ও নিরাপত্তার মৌলিক প্রয়োজনে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটি অনিবার্যভাবে গড়ে উঠেছে। এ কারণে পরিবারকে একটি সর্বজনীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি পাঠ্যবইয়ের 'সংস্কৃতি' (Culture) প্রত্যয়টিকে নির্দেশ করে।
সমাজবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলরের মতে, "সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিকতা, যার অন্তর্ভুক্ত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইন, প্রথা এবং সমাজের একজন সদস্য হিসেবে মানুষের দ্বারা অর্জিত অন্যান্য যেকোনো সামর্থ্য ও অভ্যাস।" সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের ভাষায়, "Culture is what we are" অর্থাৎ সংস্কৃতি হলো আমাদের সামগ্রিক জীবনপ্রণালি।
উদ্দীপকে পাঁচ বছর বয়সী শুভ পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা ও বটমূলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তার বাবার ব্যাখ্যায় উঠে আসে যে, এগুলো বাঙালির ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও প্রথা যা সমষ্টিগতভাবে মানুষের জীবনযাত্রার প্রণালিকে নির্দেশ করে। উদ্দীপকের এই বক্তব্যটি সমাজবিজ্ঞানীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কৃতির অবিকল প্রতিচ্ছবি। অতএব, উদ্দীপকটি স্পষ্টতই সংস্কৃতি প্রত্যয়কে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রত্যয়টি হলো 'সংস্কৃতি'। নিচে সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য: সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের মতে, "সংস্কৃতি হলো আমরা যা (Culture is what we are), আর সভ্যতা হলো আমরা যা ব্যবহার করি বা সৃষ্টি করি (Civilization is what we use)।" মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ, বিশ্বাস হলো সংস্কৃতি; আর প্রযুক্তি, দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি হলো সভ্যতা।
২. রূপ ও দৃশ্যমানতা: সংস্কৃতি মূলত মানুষের ভেতরের চেতনা ও মানসিক সৃষ্টি (যার মধ্যে বস্তুগত রূপ থাকলেও এর ভাবাদর্শিক ভিত্তি প্রধান)। পক্ষান্তরে, সভ্যতা দৃশ্যমান, বাহ্যিক ও বস্তুগত উৎকর্ষের পরিচায়ক।
৩. পরিমাপযোগ্যতা: সভ্যতার অগ্রগতি সহজে পরিমাপ করা যায় (যেমন—যন্ত্রপাতির গতি বা দক্ষতা), কিন্তু সংস্কৃতির বিকাশ সহজে পরিমাপযোগ্য নয় (যেমন—নীতিবোধ, শিল্প বা আদর্শের মান কোনো যন্ত্র দিয়ে মাপা যায় না)।
৪. স্থানান্তর ও অগ্রগতি: সভ্যতার দ্রুত বিস্তার ঘটে এবং এটি সহজে অনুকরণীয় বা বিনিময়যোগ্য (যেমন—প্রযুক্তি সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে গৃহীত হয়)। তবে সংস্কৃতি সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয় এবং তা বংশপরম্পরায় ধীরগতিতে সঞ্চারিত হয়।
৫. অবক্ষয় ও স্থায়িত্ব: সভ্যতার ধ্বংস বা বিনাশ হতে পারে (যেমন—বিলুপ্ত প্রাচীন শহরসমূহ), কিন্তু সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান রূপান্তরের মধ্য দিয়ে মানবচেতনায় বেঁচে থাকে।
সুতরাং, সংস্কৃতি ও সভ্যতা পরস্পরের পরিপূরক হলেও বৈশিষ্ট্য ও ধারণাগত দিক থেকে তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও