‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব রফিকুল ইসলাম তাঁর অসাধারণ গুণাবলির জন্য জনসাধারণের কাছে বিশেষ সম্মানের আসনে সমাসীন। তিনি সহজেই জনগণকে প্রভাবিত করতে পারেন। বিশেষত চারিত্রিক দৃঢ়তা, সহাসিকতা ও বাগ্মিতার জন্য জনগণ তার প্রতি মুগ্ধ। তিনি রাজনীতিতে বহুদলীয় ব্যবস্থার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।

  1. ক)

    রাজনৈতিক দল কী?

    (1)
  2. খ)

    জনমত বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব রফিকুল ইসলামের আচরণে কী ধরনের নেতৃত্বের প্রকাশ লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব রফিকুল যে নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন তা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে তুমি কি মনে করো? যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাজনৈতিক দল হলো এমন একটি সুসংগঠিত জনসমষ্টি, যা সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতে বৈধ বা সাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণ অর্থে জনমত বলতে জনগণের মতামতকে বোঝায়। তবে পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জনমত হলো জাতীয় বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সুস্পষ্ট, যুক্তিযুক্ত ও কল্যাণকামী সুচিন্তিত মতামত, যা সরকার ও সমাজকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। কেবল যেকোনো মতামতই জনমত নয়; জনকল্যাণমুখী ও দৃঢ় প্রত্যয়সম্পন্ন অভিমতই হলো প্রকৃত জনমত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব রফিকুল ইসলামের আচরণে ‘সম্মোহনী নেতৃত্ব’ বা ক্যারিশম্যাটিক (Charismatic) নেতৃত্বের প্রকাশ লক্ষ করা যায়।

    যে নেতৃত্বের মূলে নেতার ব্যক্তিগত জাদুস্পর্শী বা অলৌকিক গুণাবলি, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং অসাধারণ আকর্ষণ ক্ষমতা থাকে, যা সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে, তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলে। এ ধরনের নেতার ব্যক্তিত্বের প্রভাবে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তাঁর আদেশ-নির্দেশ বিনা দ্বিধায় মেনে নেয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রফিকুল ইসলাম তাঁর অসাধারণ গুণাবলির জন্য জনসাধারণের কাছে বিশেষ সম্মানের আসনে সমাসীন। তিনি সহজেই জনগণকে প্রভাবিত করতে পারেন এবং তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা, সাহসিকতা ও বাগ্মিতায় জনগণ মুগ্ধ। এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রত্যক্ষভাবে সম্মোহনী নেতৃত্বের পরিচায়ক। সুতরাং, তাঁর আচরণে সম্মোহনী নেতৃত্বের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি জনাব রফিকুল ইসলাম যে ‘বহুদলীয় ব্যবস্থার’ নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন, তা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

    যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রে একাধিক স্বাধীন ও সক্রিয় রাজনৈতিক দল বিদ্যমান থাকে এবং সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে পারে, তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ভিত্তি।

    বহুদলীয় ব্যবস্থা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে, কারণ:
    ১. জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ: বহুদলীয় ব্যবস্থায় সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও মতাদর্শের নাগরিকরা তাদের পছন্দসই রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নিজস্ব দাবি-দাওয়া ও মতামত তুলে ধরার সুযোগ পায়।
    ২. স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধ: একাধিক দল সক্রিয় থাকলে শক্তিশালী বিরোধী দলের সৃষ্টি হয়। বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি ও অন্যায়ের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখে এবং স্বৈরাচারী হওয়া থেকে বিরত রাখে।
    ৩. বিকল্প নেতৃত্বের সুযোগ: বহুদলীয় কাঠামোতে যোগ্য ও বিকল্প নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি হয়, ফলে সরকার ব্যর্থ হলে জনগণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অন্য দলকে ক্ষমতায় আনার সুযোগ পায়।
    ৪. রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: বিভিন্ন দলের প্রচার-প্রচারণা, আদর্শের প্রতিযোগিতা ও বিতর্কের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা ও নাগরিক চেতনার প্রসার ঘটে।

    অতএব, পরমতসহিষ্ণুতা, প্রতিনিধিত্বশীল শাসন ও গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে বহুদলীয় ব্যবস্থা অপরিহার্য। তাই জনাব রফিকুল ইসলামের বহুদলীয় ব্যবস্থার নীতি দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিঃসন্দেহে আরও সংহত ও সুদৃঢ় করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন