বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্বন্ধে সাধারণ মানুষ খুবই অসচেতন। এটি যে তাদের দেহ ও মনের উপর কী পরিমাণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা তারা জানে না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো ক্ষতিকর দিকটি জেনেও এর প্রচার ও প্রসারের জন্য নিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নীতি, আদর্শ, স্বাস্থ্য কিংবা মানুষের জীবন নয়; কোম্পানিগুলোর কাছে মুখ্য তাদের মুনাফা ও অস্তিত্ব।
- ক)(1)
হাসুনির মাকে মজিদ কী রঙের শাড়ি কিনে দেয়?
- খ)(2)
“বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।" উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাধরণ মানুষের সাথে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের তুলনা কর।
- ঘ)(4)
"পরিস্থিতি স্বতন্ত্র হলেও উদ্দীপকের কোম্পানিগুলো ও মজিদের উদ্দেশ্য অভিন্ন।"-স্বীকার কর কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাসুনির মাকে মজিদ বেগুনি রঙের শাড়ি কিনে দেয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ”—উক্তিটি দিয়ে মজিদের চোখের স্থিরতা, দৃঢ়তা ও ভণ্ডামিপূর্ণ অবিচল আত্মবিশ্বাসকে বোঝানো হয়েছে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ গ্রামে প্রবেশ করে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সে অত্যন্ত সচেতনভাবে এমন এক আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে যা সাধারণ গ্রামবাসীর মনে গভীর ভক্তি ও ভীতির সঞ্চার করে। তার চোখের সেই অটল ও অপলক দৃষ্টি দেখে মনে হয় তা যেন অন্ধ বিশ্বাসের ওপর পাথরের মতো খোদাই করা, যার ভেতরে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা সংশয় প্রকাশ পায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাধারণ মানুষের অসচেতনতা ও অজ্ঞতার দিকটি 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের চরিত্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসচেতন। তারা বুঝতে পারে না যে এটি তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কী অপূরণীয় ক্ষতি করছে। তাদের এই অসচেতনতা ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে কোম্পানিগুলো নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
'লালসালু' উপন্যাসেও দেখা যায়, মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ সহজ-সরল, ধর্মভীরু এবং চরমভাবে অসচেতন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তাদের বাস্তবতাবোধ ও ধর্মীয় চেতনার অভাবকে পুঁজি করে প্রতারক মজিদ একটি ভুয়া মাজার প্রতিষ্ঠা করে গ্রামের কর্তৃত্ব দখল করে। মজিদের প্রতিটি কথা ও অনুশাসনকে তারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এবং নিজেদের শোষণ হতে দেখেও প্রতিরোধ গড়ে তোলে না। উদ্দীপকের সাধারণ মানুষ যেমন সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতিকর রূপ না জেনে তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি মহব্বতনগর গ্রামের মানুষও মজিদের ধর্মীয় ভণ্ডামির স্বরূপ বুঝতে না পেরে অন্ধ বিশ্বাসের শিকার হয়। তাই অসচেতনতা ও শোষিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের সাধারণ মানুষ এবং উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ তুলনীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"পরিস্থিতি স্বতন্ত্র হলেও উদ্দীপকের কোম্পানিগুলো ও মজিদের উদ্দেশ্য অভিন্ন"—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
উদ্দীপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো প্রযুক্তির যুগে মুনাফা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির দিক অগ্রাহ্য করে এর প্রচার ও প্রসার চালিয়ে যায়। তাদের কাছে নীতি, আদর্শ কিংবা মানুষের কল্যাণের চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষাই মুখ্য।
অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে নিজের জীবিকা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও অস্তিত্ব বজায় রাখতে চেয়েছে। সে ভালো করেই জানত কবরটি কোনো প্রকৃত পীরের নয়, তবুও সে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে শোষণ করেছে। মিথ্যা মাজারকে কেন্দ্র করে পুরো মহব্বতনগর গ্রামে ভীতি ও অন্ধবিশ্বাস ছড়িয়ে দিয়ে সে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। নীতি-নৈতিকতা বা মানুষের কল্যাণ নয়, বরং কেবল নিজের স্বার্থ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই ছিল মজিদের মূল লক্ষ্য।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক জগত এবং উপন্যাসের প্রেক্ষাপট একটি গ্রামীণ ধর্মান্ধ সমাজ। মাধ্যম ও পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও উভয় পক্ষই সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ, অস্তিত্ব ও মুনাফা অর্জনে লিপ্ত। নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করে স্বার্থ হাসিলের মানসিকতার কারণে উদ্দীপকের কোম্পানিগুলো এবং উপন্যাসের মজিদের উদ্দেশ্য প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও