উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
স্বল্পশিক্ষিত তমালিকা যুব উন্নয়ন হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজ বাড়িতে মাশরুম চাষ শুরু করেন। উক্ত কাছে তিনি নিজ তহবিলের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে পাঁচ জন দুস্থ মেয়ের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার দক্ষ পরিচালনায় ব্যবসা প্রসারিত হচ্ছে।
- ক)(1)
ব্যবসায় জোট কি?
- খ)(2)
"ভূমির উৎপাদন ব্যয় নেই"-ব্যাখ্যা কর?
- গ)(3)
তমালিকার কাজটি উৎপাদনের কোন উপকরণের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উভয়ের শ্রম দিলেও তমালিকা ও তার কর্মীদের কাজ এক নয়"- আমের ধরন উল্লেখপূর্বক মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুনাফা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এবং পারস্পরিক প্রতিযোগিতা পরিহার করে সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে কতিপয় স্বতন্ত্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে যে সংগঠন বা মৈত্রী গড়ে তোলে, তাকে ব্যবসায় জোট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূমি মানুষের কোনো সৃষ্টি নয়, এটি প্রকৃতির এক অনন্য ও মুক্ত দান। মানুষ অন্যান্য উপাদান যেমন মূলধন বা পণ্য উৎপাদন করতে গিয়ে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে, ফলে সেগুলোর উৎপাদন ব্যয় বিদ্যমান থাকে। কিন্তু সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকেই ভূমি প্রকৃতিতে বিদ্যমান এবং মানুষ এর কোনো রূপান্তর বা সৃষ্টির পেছনে ব্যয় নির্বাহ করেনি। তাই ভূমির যোগান সৃষ্টিতে কোনো মানুষের ব্যয় না থাকায় বলা হয় ভূমির উৎপাদন ব্যয় নেই।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তমালিকার কাজটি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ 'সংগঠন' (উদ্যোক্তা)-এর অন্তর্ভুক্ত।
উৎপাদনের অন্যান্য উপাদান যেমন— ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে একত্রিত করে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা, ঝুঁকি গ্রহণ এবং তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার সার্বিক প্রক্রিয়াকে সংগঠন বলে। আর যিনি এ কাজ সম্পাদন করেন তাকে উদ্যোক্তা বা সংগঠক বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তমালিকা যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতে মাশরুম চাষের পরিকল্পনা করেন। তিনি নিজ তহবিল ও কৃষি ব্যাংকের ঋণের সমন্বয়ে মূলধন যোগাড় করেন এবং পাঁচজন দুস্থ কর্মীকে নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম সমন্বয় ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করছেন। অর্থাৎ তিনি ঝুঁকি গ্রহণ করে উৎপাদনের উপকরণগুলোকে সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন। তাই তার কাজটি উৎপাদনের 'সংগঠন' উপাদানের অন্তর্গত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উভয়ে শ্রম দিলেও তমালিকা ও তার কর্মীদের শ্রমের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ায় তাদের কাজ এক নয়— উক্তিটি যথার্থ।
অর্থনীতিতে উৎপাদনের উদ্দেশ্যে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সকল প্রকার কর্মপ্রচেষ্টাকে শ্রম বলা হয়। প্রকৃতিভেদে শ্রম মূলত দুই প্রকার: শারীরিক শ্রম এবং মানসিক বা উদ্যোক্তাসুলভ শ্রম।
উদ্দীপকে পাঁচ জন দুস্থ কর্মী মাশরুম চাষ ও উৎপাদনের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি শারীরিক শ্রম প্রদান করছেন। তাদের কাজের মূল চালিকাশক্তি হলো কায়িক শ্রম, যার বিনিময়ে তারা নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা মজুরি লাভ করেন। এই কর্মীরা কোনো ব্যবসায়িক ঝুঁকি বা পরিচালনার দায়িত্ব বহন করেন না।
অপরদিকে, তমালিকা হলেন এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা বা সংগঠক। তিনি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মেধা খাটিয়ে 'মানসিক শ্রম' প্রদান করছেন। তিনি শুধু শ্রম দিচ্ছেন না, বরং ঝুঁকি গ্রহণ ও ব্যবসায় পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। তার শ্রমের প্রতিদান হলো প্রতিষ্ঠানের 'মুনাফা'।
অতএব, কর্মীদের প্রদত্ত শ্রম হলো কায়িক বা শারীরিক শ্রম এবং তমালিকার শ্রম হলো মেধাভিত্তিক বা উদ্যোক্তাসুলভ শ্রম। তাই উভয়ের প্রচেষ্টা শ্রম হিসেবে গণ্য হলেও তাদের কাজের ধরন, দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও