সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
X, Y এবং Z ইংল্যান্ডের একই এলাকার বাসিন্দা। X একজন সুস্থ সবল যুবক। সে ভিক্ষা করতে পছন্দ করে। Y বার্ধ্যক্যজনিত কারণে অক্ষম। Z পিতৃ-মাতৃহীন এক অসহায় বালক। ইংল্যান্ডের একটি আইন মোতাবেক X কে শ্রমাগারে, Y কে দরিদ্রাগারে এবং Z কে দত্তক হিসেবে প্রেরণ করা হয়।
- ক)(1)
সমাজকর্ম পেশার বিকাশ ঘটে কোন দেশে?
- খ)(2)
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের কোন দরিদ্র আইনের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজকর্ম পেশার বিকাশে উক্ত দরিদ্র আইনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম পেশার বিকাশ ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (বা আমেরিকায়)। তবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ইংল্যান্ডে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বলতে ব্যক্তি বা দলের মূল সামাজিক সম্পর্ক, পারিপার্শ্বিক যোগাযোগ এবং স্বাভাবিক সামাজিক মিথস্ক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন বা একাকী হয়ে পড়াকে বোঝায়। ব্যক্তি যখন সমাজ, পরিবার বা সম্প্রদায়ের স্বাভাবিক ভূমিকা পালন করতে পারে না কিংবা তাদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয় বা উপেক্ষিত হয়, তখন সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের (Elizabethan Poor Law of 1601) ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছিল: ১. সক্ষম দরিদ্র (Able-bodied poor), ২. অক্ষম দরিদ্র (Impotent poor) এবং ৩. নির্ভরশীল বালক-বালিকা (Dependent children)। সক্ষম দরিদ্রদের সংশোধনাগার বা শ্রমাগারে (Workhouse) কাজ দেওয়া হতো, অক্ষম দরিদ্রদের দরিদ্রাগারে (Almshouse) আশ্রয় দেওয়া হতো এবং নির্ভরশীল শিশুদের এতিমখানা বা দত্তক দেওয়া হতো কিংবা উপযুক্ত বয়সে শিক্ষানবিস হিসেবে পাঠানো হতো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সক্ষম যুবক X-কে শ্রমাগারে, বৃদ্ধ ও অক্ষম Y-কে দরিদ্রাগারে এবং অনাথ বালক Z-কে দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের শ্রেণিবিভাজন ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং, উদ্দীপকে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম পেশার বিকাশে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের ভূমিকা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
ঐতিহাসিকভাবে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অনুশাসনের ভিত্তিতে অসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো। কিন্তু ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে দরিদ্রদের সুরক্ষার আইনি কাঠামো তৈরি করে। এই আইনের মাধ্যমে দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাজন করে তাদের সমস্যা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়, যা বৈজ্ঞানিক সমাজকর্মের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
এই আইনের আওতায় স্থানীয় সরকার বা প্যারিশের মাধ্যমে দরিদ্র কর ধার্য ও ত্রাণ তদারকির জন্য 'ওভারসিয়ার অব দ্য পুওর' (Overseers of the poor) নিয়োগ দেওয়া হয়। এই তদারকি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই প্রথম সরকারি পর্যায়ে সমাজসেবা পরিচালনার কাঠামোগত ভিত্তি রচিত হয়। পরবর্তীতে এই ব্যবস্থাপনা থেকেই সমাজকল্যাণ প্রশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অ-প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য ব্যবস্থা এবং ব্যক্তি সমাজকর্মের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
সুতরাং, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন ইংল্যান্ডসহ আধুনিক বিশ্বের জন্য সুসংগঠিত, কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার রূপরেখা প্রদান করে, যা পরবর্তীকালে পেশাদার সমাজকর্মের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও