অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :অবদান (%) GDP তেবাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯

কৃষি উপখাত | ২০১৪-১৫ | ২০১৮-১৯
১. শস্য ও শাকসবজি | ১.৮৩ | ১.৭৫
২. প্রাণিসম্পদ | ৩.০৮ | ৩.৪৭
৩. বনজসম্পদ | ৫.০৮ | ৫.৫৮
৪. মৎস্য সম্পদ | ৬.৩৬ | ৬.২৯

  1. ক)

    শস্য বহুমুখীকরণ বলতে কী বোঝ?

    (1)
  2. খ)

    “কৃষি জাতীয় উন্নয়নে সহায়তা করে”- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ভিত্তিতে একটি স্তম্ভচিত্র অঙ্কন করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষির যে পরিবর্তনের ধারা উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই জমিতে বছরের বিভিন্ন সময়ে একক ফসলের পরিবর্তে একাধিক বা নানা জাতের ফসল চাষ করার পদ্ধতিকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া জাতীয় আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তার কারণে বলা যায় কৃষি জাতীয় উন্নয়নে প্রত্যক্ষ সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে স্তম্ভচিত্র (Bar Diagram) অঙ্কন বিবরণ:

    ১. অক্ষ নির্ধারণ: আনুভূমিক বা ভূমি অক্ষে (X-অক্ষ) কৃষির ৪টি উপখাত (শস্য ও শাকসবজি, প্রাণিসম্পদ, বনজসম্পদ, মৎস্য সম্পদ) এবং উলম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) GDP-তে শতকরা অবদানের (%) পরিমাণ (১% থেকে ৭% পর্যন্ত উপযুক্ত স্কেলে) স্থাপন করতে হবে।

    ২. স্তম্ভ উপস্থাপন: প্রতিটি উপখাতের জন্য পাশাপাশি দুটি করে যৌগিক স্তম্ভ (বা ভিন্ন রঙের/শেডের স্তম্ভ) আঁকতে হবে—একটি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য এবং অপরটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য।

    • শস্য ও শাকসবজি: ২০১৪-১৫ এর স্তম্ভের উচ্চতা হবে ১.৮৩ এবং ২০১৮-১৯ এর উচ্চতা হবে ১.৭৫।
    • প্রাণিসম্পদ: ২০১৪-১৫ এর জন্য ৩.০৮ এবং ২০১৮-১৯ এর জন্য ৩.৪৭।
    • বনজসম্পদ: ২০১৪-১৫ এর জন্য ৫.০৮ এবং ২০১৮-১৯ এর জন্য ৫.৫৮।
    • মৎস্য সম্পদ: ২০১৪-১৫ এর জন্য ৬.৩৬ এবং ২০১৮-১৯ এর জন্য ৬.২৯।

    এভাবে উল্লিখিত মান অনুযায়ী নিখুঁত উচ্চতাবিশিষ্ট দণ্ড বা স্তম্ভসমূহ অঙ্কন করলেই উদ্দীপকের তথ্যের নির্ভুল স্তম্ভচিত্র সম্পন্ন হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কৃষির বিভিন্ন উপখাতের অবদানে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে। ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শস্য ও শাকসবজির অবদান ১.৮৩% থেকে সামান্য কমে ১.৭৫% এবং মৎস্য সম্পদের অবদান ৬.৩৬% থেকে ৬.২৯% হলেও প্রাণিসম্পদের অবদান ৩.০৮% থেকে বেড়ে ৩.৪৭% এবং বনজসম্পদের অবদান ৫.০৮% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৫৮% হয়েছে।

    দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই পরিবর্তনের অবদানসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ: প্রাণিসম্পদের বিকাশ দুধ, ডিম ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে, যা জাতীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে।
    ২. পরিবেশ সংরক্ষণ ও কাঠ সরবরাহ: বনজসম্পদের অবদান বৃদ্ধি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং বনভিত্তিক শিল্পে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    ৩. বাণিজ্যিকীকরণ ও কর্মসংস্থান: ঐতিহ্যবাহী ফসলি কৃষির বাইরে ডেইরি, পোলট্রি ও বনায়নে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ বাড়ছে, ফলে বিপুল সংখ্যক যুবকের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।
    ৪. অর্থনৈতিক ভারসাম্য: একটি নির্দিষ্ট উপখাতের ওপর নির্ভরতা কমে বহুমুখীকরণ ঘটছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

    অতএব, কৃষির উপখাতসমূহের এই রূপান্তর ও আধুনিকীকরণ বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক অবদান রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন