পরিসংখ্যান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৮
পরিসংখ্যান ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায়শ জনসংখ্যা ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহ করে প্রকাশ করে। এই সকল প্রকাশনা আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তথা সমগ্র দেশের জনসংখ্যা ও শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যাদি পেতে বেশ সহায়তা করে। কখনও কখনও অদক্ষ জনবল, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, অসততা ইত্যাদি কারণে সংগৃহীত তথ্যাবলিতে বেশ ভুল-ভ্রান্তি হয় যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
- ক)(1)
বাংলাদেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যান কি?
- খ)(2)
পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য সম্পর্কিত পরিসংখ্যান কোন ধরনের পরিসংখ্যান? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যা ও শিক্ষা পরিসংখ্যানের ভূমিকা বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়সমূহ বাংলাদেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের উৎকর্ষতার অন্তরায় বলে কি তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংগৃহীত এবং বই, সাময়িকী বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তকে বাংলাদেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য সম্পর্কিত পরিসংখ্যান হলো স্বাস্থ্য ও জনমিতিক পরিসংখ্যান (Health and Demographic Statistics)।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম মূলত জনসংখ্যার জন্মহার নিয়ন্ত্রণ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার গঠনের সচেতনতা প্রভৃতির সাথে সম্পর্কিত। এই কার্যক্রমের সাফল্যের খতিয়ান প্রস্তুত করতে জন্মহারের পরিবর্তন, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের হার (Contraceptive Prevalence Rate), মাতৃমৃত্যু হার ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। যেহেতু এসব সূচক সরাসরি জনমিতিক ও স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত, তাই পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য সম্পর্কিত পরিসংখ্যান হলো স্বাস্থ্য ও জনমিতিক পরিসংখ্যান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যা ও শিক্ষা পরিসংখ্যান জাতীয় উন্নয়ন, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতি মূল্যায়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর ভূমিকা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের ভূমিকা:
- জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন: দেশের মোট জনসংখ্যা, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক বণ্টন, জন্ম-মৃত্যুর হার ইত্যাদির সঠিক পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা সংক্রান্ত পঞ্চবার্ষিকী ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
- সম্পদ বণ্টন ও জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানো: দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সঠিক তথ্য জেনে জনমিতিক সুবিধা (demographic dividend) অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব হয়।
২. শিক্ষা পরিসংখ্যানের ভূমিকা:
- নীতি নির্ধারণ ও বাজেট প্রণয়ন: দেশের সাক্ষরতার হার, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভর্তির হার, ঝরে পড়ার হার (dropout rate) প্রভৃতি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে অর্থ বরাদ্দ ও উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
- মানসম্মত শিক্ষার প্রসার: অঞ্চলভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত সংক্রান্ত পরিসংখ্যান পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্য বিশেষ শিক্ষানীতি ও অবকাঠামো নির্মাণে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
সুতরাং, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যা ও শিক্ষা পরিসংখ্যান অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়সমূহকে (অদক্ষ জনবল, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, অসততা ইত্যাদি) বাংলাদেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের উৎকর্ষতার প্রধান অন্তরায় বলে মনে করি।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান প্রকাশনার মান ও নির্ভুলতা ব্যাহত হওয়ার পেছনে উদ্দীপকে উল্লিখিত কারণগুলোর সপক্ষে যুক্তি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. অদক্ষ জনবল: তথ্য সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পর্যাপ্ত পরিসংখ্যানিক জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। ফলে তথ্য সংগ্রহে পক্ষপাতিত্ব ও ভুলের সুযোগ তৈরি হয়, যা পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।
২. আর্থিক সীমাবদ্ধতা: একটি নির্ভুল শুমারি বা জরিপ পরিচালনার জন্য প্রচুর আধুনিক লজিস্টিক সাপোর্ট, আধুনিক সফটওয়্যার এবং পর্যাপ্ত অর্থ প্রয়োজন। বাজেটের অপর্যাপ্ততার কারণে অনেক সময় যথাযথ নমুনা চয়ন ও গভীর অনুসন্ধান সম্ভব হয় না, ফলে ফলাফলে উৎকর্ষতা আসে না।
৩. অসততা ও দায়িত্বহীনতা: অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রাহকরা সরেজমিনে পরিদর্শন না করে অনুমানের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র পূরণ করেন। এছাড়া রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও অসততার কারণে অনেক সময় তথ্যের বিকৃতি ঘটানো হয়।
৪. আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগের অভাব: উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণে আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স টুলের অপ্রতুল ব্যবহার তথ্যের উৎকর্ষ নষ্ট করে।
উপসংহারে বলা যায়, উপরিউক্ত সীমাবদ্ধতাগুলো সংগৃহীত তথ্যাবলিতে ভুল-ভ্রান্তি ও অনির্ভরযোগ্যতা তৈরি করে। কাজেই, অদক্ষ জনবল, আর্থিক অপ্রতুলতা এবং অসততা বাংলাদেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের উৎকর্ষতার অন্যতম প্রধান অন্তরায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও