ইতিহাস ১ম পত্র • ব্রিটিশ শাসন ও প্রতিরোধ আন্দোলন • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
২০১৪ সালে বলিভিয়ায় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা উন্নত পরিবেশ ও জীবনমান বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিদ্রোহী সৈন্যদের। বহিষ্কার করে বিদ্রোহ দমনে সক্ষম হন দেশটির প্রেসিডেন্ট। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার করেন।
- ক)(1)
কে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন?
- খ)(2)
লক্ষ্ণৌ চুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন বিদ্রোহের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী পঠিত বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে স্বাক্ষরিত লক্ষ্ণৌ চুক্তি ভারতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কংগ্রেস মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়। এর ফলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক অভূতপূর্ব সূচনা ঘটে এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন সম্মিলিত রূপ লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত ১৮৫৭ সালের 'সিপাহি বিদ্রোহ'-এর মিল রয়েছে।
১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতীয় সৈন্যদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ বিদ্রোহের রূপ নেয়। সৈন্যদের বেতন বৈষম্য, দূরবর্তী অঞ্চলে পোস্টিং, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত (এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ বিতর্ক) ইত্যাদি কারণে সিপাহিরা বিদ্রোহ করে।
উদ্দীপকে বলিভিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উন্নত পরিবেশ ও জীবনমান বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টের কঠোর হস্তে তা দমন ও সেনাবাহিনী সংস্কারের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে ১৮৫৭ সালে সিপাহিরা নিজেদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বিদ্রোহ শুরু করেছিল, যা ব্রিটিশরা কঠোরভাবে দমন করে। ফলে উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে ভারতীয়রা সামরিকভাবে ব্যর্থ হলেও এর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী—মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে সত্য।
প্রথমত, এই বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রায় একশ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সরাসরি ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করে এবং মহারানি ভিক্টোরিয়া ভারতের সম্রাজ্ঞী ঘোষিত হন।
দ্বিতীয়ত, সামরিক বাহিনীতে আমূল সংস্কার আনা হয়। সেনাবাহিনীতে ভারতীয় ও ইউরোপীয় সৈন্যদের অনুপাত পুনর্নির্ধারণ করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ভারতীয়দের দূরে রাখা হয়।
তৃতীয়ত, লর্ড ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করা হয় এবং দেশীয় রাজন্যবর্গের সাথে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। সর্বোপরি, এই বিদ্রোহ ভারতীয়দের মনে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে, যা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। সুতরাং, সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল ছিল অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও