ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌপথে আমেরিকার স্বাধীনতাকামীদের সহায়তা করে। অবশেষে প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা স্বীকার করে ব্রিটিশরা অমেরিকা ত্যাগ করে।
- ক)(1)
মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
শহিদ মিনার নির্মাণ প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের অনুরূপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগী দেশটির অবদানের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
'শুধু সামরিক সাহায্য নয়, মানবিক সাহায্যের ক্ষেত্রেও দেশটির ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য'- উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পুলিশের গুলিতে বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হলে তাঁদের স্মরণে ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি শহিদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রথম শহিদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়, যার নকশা করেছিলেন বদরুল আলম। ২৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ শফিউরের পিতা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, যা পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি পুলিশ গুঁড়িয়ে দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অনুরূপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগী দেশটি হলো ভারত। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ছিল অপরিসীম।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত অস্ত্র ও সামরিক রসদ সরবরাহ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘মিত্রবাহিনী’ বা যৌথ কমান্ড। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ চালালে ভারত সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘শুধু সামরিক সাহায্য নয়, মানবিক সাহায্যের ক্ষেত্রেও দেশটির (ভারত) ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য’- উক্তিটি যথার্থ ও সর্বৈব সত্য।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যার মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে। ভারত সরকার তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংস্থান করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এছাড়া তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বব্যাপী সফর করে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালান এবং শরণার্থীদের দুর্দশা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। ভারতের রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ জনগণও তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং, স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের মানবিক সহায়তা মুক্তিযুদ্ধকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে সমান কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও