ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমী খিলাফত (৯০৯-১১৭১ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
বঙ্গোপসাগরের নিঝুম দ্বীপে একজন আগন্তকের আবির্ভাব ঘটে। উক্ত দ্বীপের অধিবাসীগণ অত্যন্ত সানী ও দুর্ধর্ষ সেও তারা ভাগ্য গণনায় বিশ্বাস করত। আগন্তুক সে ব্যাপারটি বুঝতে পেরে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্থানীয় অধিবাসীদেরকে তার পক্ষে আনতে সক্ষম হন। তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে স্বীপটির নেতৃত্ব গ্রহণ করে সুপরিকল্পিতভাবে আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে দ্বীপে প্রতিষ্ঠিত করেন। উক্ত আধ্যাত্মিক ব্যক্তি সেখানে একটি যুগোপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- ক)(1)
দাঈ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
দারুল হিকমা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত আগন্তুকের সাথে ফাতেমি খিলাফতের কোন ব্যক্তির মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ব্যক্তির চেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিই কালক্রমে অধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হন— মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘দাঈ’ (Da'i) শব্দের অর্থ আহ্বানকারী বা ধর্মপ্রচারক (ইসলামের শিয়া ইসমাইলি মতবাদ প্রচারকারী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘দারুল হিকমা’ (বা দারুল ইলম) হলো ফাতেমি খলিফা আল-হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত উচ্চতর জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র ও বিদ্যাপীঠ।
এখানে একটি বিশাল পাঠাগার ছাড়াও চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে পঠন-পাঠন ও গবেষণার সুযোগ ছিল। এটি আব্বাসীয়দের ‘বায়তুল হিকমা’র অনুকরণে শিয়া মতবাদ ও জ্ঞানের প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত আগন্তুকের সাথে ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন আল-শিয়ি-এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
আবু আব্দুল্লাহ ছিলেন একজন দক্ষ শিয়া প্রচারক (দাঈ)। তিনি উত্তর আফ্রিকার মাগরেব অঞ্চলে আসেন, যেখানে দুর্ধর্ষ ও স্বাধীনচেতা বারবার উপজাতিরা বসবাস করত। তিনি তাদের ধর্মীয় সরলতা ও বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বারবারদের (বিশেষ করে কুতামা গোত্রকে) নিজের পক্ষে নিয়ে আসেন। তাদের সহায়তায় তিনি আঘলাবি রাজবংশের পতন ঘটিয়ে সেখানে ইসমাইলি শিয়া ইমাম ওবায়েদুল্লাহ আল-মাহদির আগমনের পথ সুগম করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন আগন্তুক নিঝুম দ্বীপে গিয়ে সেখানকার দুর্ধর্ষ অধিবাসীদের মন জয় করেন, নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেন। এই ঘটনা আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ি কর্তৃক কুতামা বারবারদের বশীভূত করা এবং ওবায়েদুল্লাহ আল-মাহদিকে ইমাম/খলিফা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আগন্তুকের সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তি আবু আব্দুল্লাহর চেয়ে আধ্যাত্মিক ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ওবায়েদুল্লাহ আল-মাহদি কালক্রমে অধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন— উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিক সত্য।
আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ি তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও বারবারদের সংগঠিত করে উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন এবং ওবায়েদুল্লাহ আল-মাহদিকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ৯১০ খ্রিস্টাব্দে খলিফা হিসেবে অধিষ্ঠিত করেন। তবে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাষ্ট্রের সকল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী হয়ে ওঠেন ওবায়েদুল্লাহ আল-মাহদি। তিনি নিজেকে ইমাম এবং রাসুল (সা.)-এর কন্যা ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর হিসেবে দাবি করে সার্বভৌম আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন।
পরবর্তীতে আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ি ক্ষমতার অংশীদারিত্ব আশা করলে এবং ওবায়েদুল্লাহর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করলে ওবায়েদুল্লাহ তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এর ফলে ওবায়েদুল্লাহ একজন একক ও প্রশ্নাতীত ক্ষমতাধর শাসকে পরিণত হন এবং সমগ্র উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফতের শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলেন।
অতএব, প্রাথমিক ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী দাঈ আবু আব্দুল্লাহর ভূমিকা অগ্রগণ্য হলেও রাষ্ট্রক্ষমতা ও আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বের সংমিশ্রণে ওবায়েদুল্লাহ আল-মাহদিই কালক্রমে সর্বাধিক পরাক্রমশালী ও স্থায়ী ক্ষমতাবান শাসকে রূপান্তরিত হন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও