‍ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধিকার আন্দোলন ও ৭ মার্চের ভাষণ • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিরুদ্ধে ১৯৩০ এর দশকে ভারতে তিনটি ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করা হয়। এগুলো হলো পেশোয়ার ষড়যন্ত্র মামলা, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা ও কানপুর ষড়যন্ত্র মামলা।

  1. ক)

    মুক্তিযুদ্ধে অনিয়মিত বাহিনীর সরকারি নাম কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মামলার সাথে তোমার পঠিত কোন মামলার মিল রয়েছে? উক্ত মামলা দায়েরের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উক্ত মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সরকার গ্রহণযোগ্যতা হারায়'-পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযুদ্ধে অনিয়মিত বাহিনীর সরকারি নাম ছিল 'গণবাহিনী' (বা এফ.এফ - ফ্রিডম ফাইটার্স)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণার উৎস। বেতার কেন্দ্রটি থেকে প্রচারিত দেশাত্মবোধক গান, উদ্দীপনামূলক খবর এবং এম আর আখতার মুকুলের 'চরমপত্র' ও জল্লাদের দরবার প্রভৃতি অনুষ্ঠান রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিত এবং অবরুদ্ধ দেশের মানুষকে মুক্তিসংগ্রামের জন্য সাহসী ও আশাবাদী করে রাখত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাজনৈতিক আন্দোলন দমনে সাজানো ষড়যন্ত্র মামলার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য)-র মিল রয়েছে।

    এ মামলা দায়েরের প্রধান কারণ ছিল বাঙালির স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবিকে চিরতরে নস্যাৎ করা। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেওয়ার পর পূর্ব বাংলায় স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়। পাকিস্তানি আইয়ুব খান সরকার রাজনৈতিকভাবে এই আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন বাঙালি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করার মিথ্যা ও বানোয়াট ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলন স্তব্ধ করা এবং শেখ মুজিবকে ফাঁসি দেওয়া।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সামরিক সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চূড়ান্ত গ্রহণযোগ্যতা হারায়—উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।

    আইয়ুব সরকার ভেবেছিল শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি কর্মকর্তাদের দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে জনবিচ্ছিন্ন করা যাবে। কিন্তু মামলাটি প্রকাশের সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বুঝতে পারে এটি বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দমনের এক অপকৌশল। ফলে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়।

    তীব্র গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তানি জান্তা সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যা করলেও আন্দোলন থামাতে পারেনি। অবশেষে ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল অভিযুক্তকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়। এই ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে সরকারের নৈতিক পরাজয় ঘটে, আইয়ুব খানের গ্রহণযোগ্যতা পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয় এবং অচিরেই আইয়ুব খানের পতন ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন