ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশ দক্ষিণ সুদান। স্বাধীনতা লাভের পর দেশের প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়ে। এ নিয়ে সরকারপ্রধান রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান রচনা করেন। এর ফলে সকলের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত। হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    আনসার শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    মুহাজির কারা? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধান প্রণয়নের সাথে মহানবি (স) কর্তৃক গৃহীত কোন পদক্ষেপের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দক্ষিণ সুদানের মতো মহানবি (স)-এর গৃহীত ব্যবস্থা মানবাধিকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আনসার' শব্দের অর্থ সাহায্যকারী বা সহায়তাকারী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মুহাজির' শব্দের অর্থ হিজরতকারী বা দেশত্যাগী। ইসলামের ইতিহাসে নবুওয়তের ত্রয়োদশ বর্ষে মহানবি (স.)-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে নিজের ঈমান রক্ষার জন্য যেসব মুসলিম স্বদেশ ও ধন-সম্পদ ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত বা আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন, তাদেরকে মুহাজির বলা হয়। ইসলামের ইতিহাসে তাদের এই ত্যাগ ও নিষ্ঠা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দক্ষিণ সুদানের সংবিধান প্রণয়নের সাথে মহানবি (স.) কর্তৃক গৃহীত ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ' প্রণয়নের মিল রয়েছে।

    হিজরতের পর মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়, বিশেষত মুহাজির, আনসার, স্থানীয় পৌত্তলিক ও ইহুদিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই উদ্দেশ্যে মহানবি (স.) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনার সকল গোত্র ও ধর্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি লিখিত চুক্তি বা সংবিধান প্রস্তুত করেন, যা 'মদিনা সনদ' নামে খ্যাত।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পর নাগরিকদের অধিকার রক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। মহানবি (স.)-ও একইভাবে মদিনা রাষ্ট্রের সকল সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে মদিনা সনদ রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। অতএব, উদ্দীপকের উদ্যোগটি মদিনা সনদেরই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দক্ষিণ সুদানের মতো মহানবি (স.) কর্তৃক গৃহীত মদিনা সনদ মানবাধিকারের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    মদিনা সনদে এমন কিছু মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার ধারণার সাথে হুবহু মিলে যায়:

    ১. ধর্মীয় স্বাধীনতা: সনদে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয় যে, ইহুদি ও মুসলিমরা প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে; এতে কেউ কারও ওপর হস্তক্ষেপ করবে না।
    ২. সমঅধিকার ও নাগরিক মর্যাদা: রক্তপাত, গোত্রভেদ ও জাত্যাভিমান ভুলে গিয়ে মদিনার সকল অধিবাসীকে একটি অখণ্ড রাজনৈতিক উম্মাহ বা সম্প্রদায়ের মর্যাদা প্রদান করা হয়।
    ৩. জান-মালের নিরাপত্তা: সনদের অন্যতম শর্ত ছিল সব নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করা হবে।
    ৪. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: কোনো অপরাধী বা অত্যাচারীকে গোত্রীয় পরিচয়ের কারণে ছাড় না দিয়ে আইনের চোখে সমতা নিশ্চিত করা হয়।
    ৫. রাষ্ট্রের সুরক্ষায় যৌথ দায়িত্ব: বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ থেকে মদিনাকে রক্ষা করার দায়িত্ব ছিল মদিনাবাসী সব সম্প্রদায়ের ওপর।

    উদ্দীপকে দক্ষিণ সুদান যেমন সকল ধর্ম ও নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান প্রণয়ন করে রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নত করেছিল, ঠিক তেমনি প্রায় চৌদ্দশত বছর পূর্বে মহানবি (স.) মদিনা সনদের মাধ্যমে প্রথম একটি বহুত্ববাদী সমাজে শান্তি, সহাবস্থান ও সার্বজনীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই মদিনা সনদ মানবাধিকার সুরক্ষায় এক অনন্য ও অতুলনীয় দৃষ্টান্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন